1. info@www.awazsylhet.com : - :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন

জগন্নাথপুরে সানলাইট হোটেলের অবৈধ সম্প্রসারণে বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনে প্রতিবন্ধকতা

আওয়াজ সিলেট
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

 

অবৈধ অংশ অপসারণে ইউএনও বরাবর বিদ্যুৎ বিভাগের পত্র


প্রতিনিধি | জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ)

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর নদীর তীরে অবস্থিত সানলাইট আবাসিক হোটেলের অবৈধ সম্প্রসারণের কারণে বিদ্যুৎ লাইন পুনঃস্থাপনে গুরুতর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে অবৈধ অংশ অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), জগন্নাথপুর আবাসিক প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে হবিবপুর গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসী চোট মিয়ার মালিকানায় সানলাইট আবাসিক হোটেলটি নির্মিত হয়। এক সময় আবাসিক হোটেল হিসেবে পরিচালিত হলেও বর্তমানে ভবনের অবকাঠামো পরিবর্তন করে ব্যাচালার বাসা হিসেবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। হোটেলটির পাশেই সিলেট বিভাগের প্রথম আর্চ গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতু নির্মাণকালে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হোটেল সংলগ্ন ওভারহেড বিদ্যুৎ লাইন সাময়িকভাবে ভূগর্ভস্থভাবে স্থাপন করে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

এই সুযোগে হোটেল মালিকপক্ষ ভবনের সামনের অংশ তৃতীয় তলা পর্যন্ত অবৈধভাবে সম্প্রসারণ করে। ফলে পূর্বের ন্যায় বিদ্যুৎ লাইন পুনঃস্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে বলে বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মোঃ আজিজুর ইসলাম আজাদ স্বাক্ষরিত ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বরের পত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর উপজেলা পরিষদের এক সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আর্চ সেতুর উভয় পাশে বিদ্যমান ৩৩ কেভি, ১১ কেভি ও ০.৪ কেভি ওভারহেড বিদ্যুৎ লাইন সাময়িকভাবে স্থানান্তর ও ভূগর্ভস্থ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে সানলাইট হোটেল কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ লাইনের রাইট অব ওয়ে দখল করে ভবনের সামনের অংশ অবৈধভাবে সম্প্রসারণ করেছে।

পত্রে আরও বলা হয়, ভবনটি শুধু ওভারহেড লাইনের রাইট অব ওয়ে দখল করেনি, বরং ভূগর্ভস্থ কেবলের উপর স্থায়ী কাঠামো (বিম, স্ল্যাব) নির্মাণ করেছে, যা ফল্ট নিরসন ও জরুরি মেরামত কার্যক্রমকে সম্পূর্ণভাবে বাধাগ্রস্ত করবে।

বিদ্যুৎ আইন ২০১৮-এর ধারা ১৩ অনুযায়ী বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে বিতরণ সংস্থার আইনসম্মত পথাধিকার রয়েছে এবং এ অধিকার ক্ষুণ্নকারী স্থায়ী নির্মাণ আইনত অপসারণযোগ্য। পাশাপাশি বিএনবিসি ২০২০ অনুযায়ী বৈদ্যুতিক লাইনের নিকটে স্থায়ী নির্মাণ জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুমোদনযোগ্য নয়। স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ অনুযায়ী পৌর এলাকায় অনুমোদিত নকশা ছাড়া ভবন নির্মাণ বা সম্প্রসারণ অবৈধ।

আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ আজিজুর ইসলাম আজাদ বলেন, “বিদ্যুৎ লাইনের বিপদসীমার মধ্যে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি জনস্বার্থের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং মালিকপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হবে।”

জগন্নাথপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোঃ হেলাল আবেদীন জানান, পৌরসভার অনুমোদন ছাড়া ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। মালিকপক্ষকে নোটিশ দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, সানলাইট আবাসিক হোটেলের কেয়ারটেকার মিজানুর রহমান শিপন দাবি করেন, এটি ৪০ বছরের পুরোনো স্থাপনা এবং তারা পৌর করসহ সরকারের সব নিয়ম মেনে চলছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বরকত উল্লাহ জানান, বিদ্যুৎ অফিসের নোটিশের পরও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ না করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইন্টেল ওয়েব