
মোঃ মুকিম উদ্দিন জগন্নাথপুর প্রতিনিধি::
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অগ্র সৈনিক অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া বীর শহীদ শরিফ ওসমান হাদির স্মরণে আয়োজিত হলো এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান ‘আজাদি সন্ধ্যা’। সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ইসলামিক কালচারাল সোসাইটি রানীগঞ্জ-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারী) বেলা ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি কেবল শোক পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না বরং তা পরিণত হয়েছিল নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথ ও বিপ্লবের চেতনায় উদ্দীপ্ত এক মিলনমেলায়। সঙ্গীত পরিবেশন করেন দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী মশিউর রহমান ও আবু উবায়দা।
এছাড়াও দেশাত্মবোধক ও বিপ্লবী গান পরিবেশন করেন ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন দিশারি শিল্পীগোষ্ঠী। যাদের অর্থায়ানে এই আয়োজন ইউ. কে. প্রবাসী মাওলানা শফিকুল ইসলাম, বেলাল আহমেদ, কানাডা প্রবাসী আহমেদ ওয়ায়েস নিজাম, ইউ. কে. প্রবাসী জুবেল আহমেদ শিপু, মাজহারুল ইসলাম দেলোয়ার, জসীম উদ্দিন, ফয়জুল আলম, আজিজুল আলম, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী শাহিদুল ইসলাম, ইউ. কে. প্রবাসী রিয়াজুল আলম, সার্বিক তত্বাবধানে সমাজ সেবক আবু তাহের মজনু, আব্দুল মুক্তাদির খালেদ, আরজু মিয়া, আবুল কাশেম, শরীফুল ইসলাম, মাসুদ আহমদ, শেনুজ মিয়া, মিডিয়ার পার্টনার ছিল প্রতিদিনের জগন্নাথপুর, প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটিতে আহবায়ক ছিলেন আহবায়ক শিপন আহমদ, যুগ্ম আহবায়ক সাহেদ তালুকদার, জুনায়েদ মিয়া, সদস্য সচিব সোলেমান আহমদ, জসিম উদ্দিন, ওমর ফেরদৌস নোমান, নুরে আলম রাজা, যুগ্ম সদস্য সচিব কাউসার আহমেদ, সহযোগী যুগ্ম সদস্য সচিব শাকির আহমেদ, সহযোগী যুগ্ম সদস্য সচিব, আরিফুল ইসলাম, মোফাচ্ছির আহমেদ, সালমান মিয়া, ইমতিয়াজ আলম, মান্না মিয়া, হাদি আহমেদ, শাহজালাল ফাহিম, আফজাল হোসেন।
এ সময় সিলেট জর্জ কোর্টের এপিপি সমাজ সেবক ইয়াসিন খান, সমাজ সেবক মাওলানা লুতফুর রহমান, মাওলানা দরছ উদ্দিন, আবুল হোসাইন মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ, মো, কবির উদ্দিন, মাওলানা নজরুল ইসলাম নিজামী সহ কয়েক হাজার জনসাধারন উপস্থিত ছিলেন।
হাদির সহযোদ্ধা, শিক্ষক এবং পরিবারের সদস্যরা তাঁর অদম্য সাহসিকতা ও দেশের প্রতি ভালোবাসার স্মৃতি তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, হাদির মতো তরুণদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান এবং জুলাই বিপ্লবের বীরত্বগাথা নিয়ে রচিত কবিতা আবৃত্তি করা হয়। আন্দোলনে হাদির সক্রিয় ভূমিকা এবং তাঁর জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোর ওপর নির্মিত একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওচিত্র প্রদর্শিত হয়, যা উপস্থিত সবার চোখে পানি এনে দেয়। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে শহীদ শরিফ ওসমান হাদির রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
বক্তারা বলেন, শরিফ ওসমান হাদি আজাদি বা স্বাধীনতার যে স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন, সেই চেতনাকে পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এই ‘আজাদি সন্ধ্যা’ এক অনন্য উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ জনতা উপস্থিত হয়ে শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পুরো এলাকায় এক আবেগঘন ও গৌরবময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়।