
হানিফ পারভেজ, বড়লেখা প্রতিনিধি:-
ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসায় বড়লেখা শহরের দর্জিপাড়ার ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। পছন্দের পোশাক সময়মতো হাতে পেতে ক্রেতারা ছুটছেন শহরের বিভিন্ন টেইলার্সে।
উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারসহ পৌর শহরের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন ফ্যাশন সচেতন ক্রেতারা। চাঁদরাতের আগেই পোশাক হাতে পেতে আগাম অর্ডার দিচ্ছেন তারা।
বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে অনেক দর্জিকেই অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে।
বড়লেখা বাজারের টেইলাস্ মালিকদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানান রমজানের ২০ তারিখ পর্যন্ত অর্ডার নেবেন।
আরো বলেন, সবচেয়ে বেশি অর্ডার আসছে সালওয়ার-কামিজের। বিশেষ করে জর্জেট কাপড়ের চাহিদা এবার বেশি।
দর্জির কাছে আসা এক নারী গ্রাহক বলেন, ঈদে তৈরি পোশাকের চেয়ে নিজের পছন্দমত ডিজাইন দিয়ে দর্জির তৈরি পোশাকই পছন্দ করেন বেশি।
লেডিস টেইলার্সের এক মালিক বলেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ক্রেতার সংখ্যা তত বাড়ছে। এবার ব্লাউজ ও বোরকার অর্ডার বেশি পাচ্ছেন তারা।
পৌর শহরের আরেক পরিচিত দর্জি জানান, কাজের চাপ থাকলেও আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম।
তিনি আরও বলেন, ‘আগে রমজানের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই অতিরিক্ত চাপে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করতে হত। এ বছর এখনও অর্ডার নিচ্ছি।’তাদের মতে, ভিড় আছে, তবে তা সামাল দেওয়া যাচ্ছে।
দর্জিরা আরও জানান, সালওয়ার-কামিজ সেলাইয়ে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। ব্লাউজ ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, পেটিকোট ৮০ থেকে ১৩০ টাকা, গাউন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, বোরকা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং শিশুদের ফ্রক ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।
তবে ডিজাইন ও কারুকাজ ভেদে খরচ বাড়বে। ভারী কাজের পোশাকে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্তও নেওয়া হচ্ছে।
পুরুষদের পোশাক তৈরি করেন এমন দর্জিরা জানান, এবার ঈদের আগে শার্ট-প্যান্টের তুলনায় পাঞ্জাবির চাহিদা বেশি।
তারা বলেন, প্যান্ট সেলাইয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং প্রতি শার্টে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে খরচ নির্ভর করছে কাপড় ও ডিজাইনের ওপর।
বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকলেও শেষ সময়ে ভীড় আরও বাড়বে বলে আশা করছেন দর্জিরা।
রমজানের শেষ দিকে ক্রেতাদের ঢল নামবে বলেও প্রত্যাশা তাদের।
তাদের বিশ্বাস, ঈদের আগে ব্যবসা আরও জমজমাট হবে। এতে উৎসব মৌসুমে বাড়তি আয়ের মুখ দেখবেন পোশাকের এই কারিগররা।