
অভিজিৎ সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:-
জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ-এর ছাত্রী হোস্টেলে “অনুচ্ছদ বস্তু” প্রাপ্তি নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে সামাজিক মাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বৈঠকে এডিসি (ADC) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) উপস্থিত সকলের সামনে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত তদন্ত কমিটি
আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। হোস্টেল ব্যবস্থাপনা নিয়ে ব্যাখ্যা অভিযুক্ত শিক্ষক হোস্টেল সুপার মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ছাত্রী হোস্টেলের সূচনালগ্ন থেকেই শিক্ষিকার সংকট থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষ একজন মহিলা শিক্ষিকার পাশাপাশি একজন পুরুষ শিক্ষককে প্রশাসনিক দায়িত্বে রাখতেন। তার দাবি— তিনি কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
হোস্টেলের অভ্যন্তরীণ তদারকি করতেন মহিলা শিক্ষক। হোস্টেলে একজন আয়া ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রহরীও দায়িত্বে ছিলেন।
তবে এ বিষয়ে কলেজের লিখিত নীতিমালা কী— তা এখনো প্রকাশ হয়নি। অভিযোগের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
অভিযুক্ত শিক্ষক দাবি করেন, এখনো পর্যন্ত কোনো ছাত্রীর পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ আসেনি। এমনকি কলেজ অধ্যক্ষও তাকে লিখিত বা মৌখিকভাবে কিছু জানাননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্টে অভিযোগের বিষয়টি অতিরঞ্জিত ও বানোয়াট বলে দাবি করা হয়েছে। পোস্টগুলোর উৎস ও উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৮ জানুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত হোস্টেলে নির্বাচনী সেনা ক্যাম্প অবস্থান করেছিল। সে সময়ে হোস্টেলের সার্বিক তত্ত্বাবধান সেনাবাহিনীর হাতে ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এ সময়ে কোনো অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছিল কি না— সেটিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন এবং হয়তো কোনো মহলের চক্রান্তের শিকার হয়েছেন। তিনি প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন।