1. info@www.awazsylhet.com : - :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন

ফেঞ্চুগঞ্জে চার ইটভাটা বন্ধ: থমকে গেছে নির্মাণকাজ, হাজার শ্রমিকের জীবনে সংকট

আওয়াজ সিলেট
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার চারটি ইটভাটা—মেসার্স মোতালেব ব্রিক্স, সুরমা ব্রিক্স, নুরুল ব্রিক্স এবং একতা ব্রিক্স—টানা দুই বছর ধরে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নবায়ন না পাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বহু বছর ধরে নিয়ম মেনে পরিচালিত এসব ভাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মালিক, শ্রমিক, ঠিকাদার—সবাই চরম বিপাকে পড়েছেন।

একসময় যেখানে বছরে প্রায় ২ কোটি ইট উৎপাদিত হতো, সেই ভাটাগুলো আজ জরাজীর্ণ ও অচল অবস্থায় পড়ে আছে। মালিকদের হিসেবে, গত দুই বছরে সম্মিলিতভাবে এসব ভাটার লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় এক হাজার নারী–পুরুষ শ্রমিক। উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতি মৌসুমে ভ্যাটসহ সরকারের যে ১০ লাখ টাকার রাজস্ব পাওয়ার কথা ছিল, সেটিও হারাচ্ছে রাষ্ট্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩৫–৪০ বছর ধরে ফেঞ্চুগঞ্জের ইটভাটাগুলো লোকালয় থেকে দূরে, পরিবেশ অধিদপ্তরের সব নিয়ম মেনে পরিচালিত হচ্ছিল। উঁচু চিমনি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতো নিয়মিত। এসব ভাটার ওপরই নির্ভর করে ছিল বহু শ্রমিকের পরিবার।

কিন্তু হঠাৎ করেই গত দুই মৌসুমে ইট পোড়ানোর ছাড়পত্র না পেয়ে ভাটাগুলোতে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মালিকরা ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন এবং শ্রমিকরা রোজগার হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন। ইটের সংকট দেখা দেওয়ায় ফেঞ্চুগঞ্জসহ আশপাশের উপজেলাগুলোর সরকারি-বেসরকারি নির্মাণকাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

ব্রিক্সের শ্রমিকরা বলেন, “ভাটায় ছয় মাস কাজ করলেই সারা বছরের সংসার চলে যেত। দুই বছর ধরে ভাটা বন্ধ। এখন না খেয়ে-না খেয়ে দিন কাটছে।”

মোতালেব ব্রিক্সের মালিক হাজী আব্দুল মোতালেব বলেন, “কুশিয়ারা ও জুড়ি নদীর তীরে পরিবেশ অধিদপ্তরের সব নিয়ম মেনে ৩৫ বছর ধরে ভাটা চালিয়েছি। কর্মকর্তা এসে পরিদর্শনও করেছেন। তবুও কেন ছাড়পত্র দিচ্ছেন না, বুঝতে পারছি না। “আগের উৎপাদিত সব ইট বিক্রি হয়ে গেছে। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় নতুন করে উৎপাদন শুরু করা যাচ্ছে না।”

ইটভাটা মালিক, শ্রমিক ও স্থানীয় ঠিকাদারদের দাবি—চলমান সংকট দ্রুত সমাধান করে ভাটাগুলোতে উৎপাদন চালুর অনুমতি দেওয়া হোক, যাতে স্থবির হয়ে পড়া নির্মাণকাজ ও স্থানীয় অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইন্টেল ওয়েব