রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দুই মন্ত্রী টেলিফোনে কথা বলার সময় ইরানে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের আহ্বান জানান এবং ইরান-সংক্রান্ত বিষয়গুলো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি উপসাগরীয় সব দেশের বৈধ নিরাপত্তা স্বার্থ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার হিসেবে নিয়োগ পেলেন মাহফুজুর রহমান
ল্যাভরভ ও ওয়াং বলেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের এই আগ্রাসন আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে এবং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। তারা ‘সার্বভৌম রাষ্ট্রের বৈধভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাতের’ নীতির বিরোধিতা করেন এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকে মস্কো ও বেইজিংয়ের অভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন।
দুই দেশ নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা এবং জাতিসংঘ সনদ রক্ষায় গঠিত বন্ধু গ্রুপের কাঠামোর মধ্যে সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানায়।
এর গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ল্যাভরভ সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। সে সময় উভয় পক্ষ সব ধরনের শত্রুতা অবিলম্বে বন্ধ করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথে ফেরার বিষয়ে ‘অভিন্ন মত’ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ল্যাভরভ যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা তার ভাষায় ‘অযৌক্তিক আগ্রাসন’ উসকে দিয়েছে এবং আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করছে।
পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যে গত শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমন্বিতভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। এতে দেশটির সর্বোচ্চ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। জবাবে তেহরান ইসরাইলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের মার্কিন ঘাঁটিও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের জুনেও ইরানের ওপর একই ধরনের হামলা চালানো হয়েছিল, যার ফলে তীব্র যুদ্ধ শুরু হয় এবং ১২ দিন পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।