
হানিফ বড়লেখা
বড়লেখা প্রতিনিধি
ত্যাগের মহিমা, মানবিকতার শিক্ষা ও সাম্যের অমিয় বাণী নিয়ে সারা দেশের ন্যায় প্রচণ্ড বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই মৌলভীবাজারের বড়লেখায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে উদ্যাপিত হলো মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা।
আপনজন আর প্রতিবেশীদের এই মহামিলনে বড়লেখা উপজেলা জুড়ে নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে বাঙালির চিরায়ত সামাজিক ও পারিবারিক সৌহার্দ্যের বন্ধন।
হিজরি সনের জিলহজ মাসের ১০ তারিখে এই উৎসব পালিত হয়ে থাকে। ২৮ মে, বৃহস্পতিবার বড়লেখাবাসী মেতেছেন কোরবানির এই আনন্দে। ঈদুল ফিতরের মতো এই উৎসবে চাঁদ দেখা নিয়ে আগে থেকে কোনো অনিশ্চয়তা ছিল না, বরং ১০ দিন আগেই উৎসবের দিনক্ষণ নিশ্চিত হয়ে যায়। ফলে পশু কেনাকাটা থেকে শুরু করে যাবতীয় প্রস্তুতি আগেভাগেই সম্পন্ন করার সুযোগ পান ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
এবারের ঈদ এমন একটি সময়ে এসেছে যখন দেশের সাধারণ মানুষ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন। হাকালুকি হাওরাঞ্চলের ফসলহানি এবং দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবে অনেক মায়ের কোল খালি হওয়ার মতো দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। এর ওপর যুক্ত হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির চাপ, যা সাধারণ মানুষের আয় ও ব্যয়ের সমীকরণকে কঠিন করে তুলেছে। তবে জীবনের এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও ঈদের উৎসব থেমে থাকেনি। সব প্রতিকূলতা একপাশে সরিয়ে রেখে সামর্থ্যের সীমানার মধ্যেই মানুষ খুঁজে নিচ্ছেন পারস্পরিক মিলন, আনন্দ ভাগাভাগি ও যৎসামান্য স্বস্তির মুহূর্ত।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে যার যার সাধ্যমতো পছন্দের পশু কোরবানি দিয়েছেন সচ্ছল মুসলমানরা। কোরবানির ঈদ মানে শুধু মাংস খাওয়া না, এই ঈদ মূলত ত্যাগের। নিয়ম মেনে কোরবানির একভাগ গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ করা, এটা তাদের প্রতি দয়াদাক্ষিণ্য না, এই মাংস পাওয়া তাদের অধিকার। বাকি মাংসের বেশিরভাগ আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।এর আগে সকালে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ নতুন কিংবা পরিষ্কার পোশাক পরিধান করে, সুগন্ধি মেখে ঈদগাহ ও মসজিদে সমবেত হয়েছেন। সেখানে সবাই এক কাতারে দাঁড়িয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন এবং নামাজ শেষে কোলাকুলির মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের চিরন্তন বার্তা।