
ঠাকুরগাঁঁওয়ের প্রতিনিধি
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরবঙ্গের প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলহাজ দবিরুল ইসলাম আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড় ভাই ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল ৩টায় শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলাম ছিলেন ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের অন্যতম পরিচিত মুখ। ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন এবং প্রথমে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। পরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন।
ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে টানা সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিরল কৃতিত্ব রয়েছে তার। ১৯৮৬ ও ১৯৯১ সালে সিপিবির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয় অর্জন করেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও দীর্ঘদিন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংগঠক হিসেবে এলাকাবাসীর কাছে তিনি ছিলেন সুপরিচিত। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। একই বছরের ৩ অক্টোবর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে জামিনে মুক্তি পান তিনি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।