
মুহাম্মদ হানিফ পারভেজ, বড়লেখা প্রতিনিধি:-
একজন ‘মানবিক ইউএনও’ হিসেবে পরিচিতি নিয়েই মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলা থেকে বিদায় নিলেন গালিব চৌধুরী।
যোগদানের কিছু দিনের মধ্যেই নিজ গুণে সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন তিনি। উপজেলাবাসী একজন সজ্জন, কর্মঠ, জনবান্ধব ও দক্ষ অফিসারকে হারিয়ে আজ বেদনাবিধুর।
দীর্ঘ দিন বড়লেখা উপজেলার মানুষকে সেবা করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এ সময়ে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে জনগণের সেবা দিয়েছেন।জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর ওপর ছিল তার সজাগ দৃষ্টি। তার প্রশাসনিক এলাকায় জনস্বার্থবিরোধী কোন ঘটনা তার নজরে এলে কালবিলম্ব না করে তাৎক্ষণিক সরেজমিনে গিয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে তা দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করেছেন। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যে মূলধর্ম কাজের মধ্যদিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনিসমূহে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বা তরুণ শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
উপজেলাবাসী একজন সজ্জন, জনবান্ধব ও মানবিক কর্মকর্তাকে হারালো।উনি খুব স্থির ও ধৈর্যশীল মানুষ ছিলেন। মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। বিরক্ত, অবহেলা বা ব্যস্ততা দেখাতেন না কাউকে।
বড়লেখা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ইউএনও একজন জনবান্ধব মানুষ ছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যে উপজেলার সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মন জয় করেছিলেন। নিম্নশ্রেণি থেকে উচ্চপদস্থ লোক খুব সহজে তার কাছে যেত পারত। কোন ঘটনাঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ছুটে যেতেন।
তিনি আরো বলেন, আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি বিদায়ী ইউএনও একজন সৃজনশীল ও মানবিক ইউএনও ছিলেন। তিনি কোন কল্যাণকর কাজ থেকে পিছুপা হননি। তিনি খুবই ভালো মানুষ। পরিশ্রমী, দক্ষ ও সৎ ব্যক্তি ছিলেন।তার সততা ও ন্যায়পরায়ণতায় আমরা মুগ্ধ হয়েছি। তিনি অত্যন্ত উদার মনের মানুষ।তিনি সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।তার কর্মের কথা উপজেলাবাসী মনে রাখবে। প্রত্যেকটি মানুষের কথা তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনতেন ও সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে চেষ্টা করতেন। সারাক্ষণ উপজেলার উন্নয়ন নিয়ে ভাবতেন। তিনি সৎ, উদ্যামী ও কর্মঠ ছিলেন।