1. info@www.awazsylhet.com : - :
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বড়লেখায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অপরাধ দমনে এমপি’র কড়া নির্দেশ বিশ্বনাথে ৩দিন ব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন। রাজশাহীতে চলছে ভূমিসেবা মেলা ২০২৬ জগন্নাথপুরে ১২টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমতির জন্য আবেদন সাধু বাবার আস্তানায় নারী ধর্ষণের শিকার বড়লেখায় ব্যতিক্রমী জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন নাসির উদ্দিন এমপি ওসমানীনগরকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে- অধ্যাপক মাহফুজা হান্নান এমপি ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের দাতা সদস্য হলেন ব্যবসায়ী সাজন গজনভী রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে রাণীশংকৈলে মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের জনবলদের স্মারকলিপি নওহাটা খাদ্য গুদামে অনিয়মের

গ্রামীণ ঐতিহ্যের ভরসা হয়ে টিকে আছে শতবর্ষী ‘দাসের বাজার”

আওয়াজ সিলেট
  • প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে

হানিফ পারভেজ, বড়লেখা প্রতিনিধি:-

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ‘দাসের বাজার’ একটি ঐতিহ্যবাহী বাজার। আধুনিকতার যুগে চারদিকে গ্রামীণ বাজারের চেহারা বদলে গেলেও গ্রামীণ জীবনের ভরসা হয়ে আজও রয়ে গেছে শতবর্ষী এই বাজার।

গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ মেলে এই বাজারে। বিশেষ করে গ্রামীণ জীবনের দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত টেকসই বাঁশ-বেতের জিনিসের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

সরজমিন দেখা গেছে, এ বাজারে বাঁশ-বেতের তৈরি টুকরি (ঝুড়ি), খলই (মাছ রাখার পাত্র), দুছইন, হুপা (মাছ ধরার যন্ত্র), ঝাঁকা, কুলা, চালুন, বেতের মাথাল, সেঁউতি, লাঙ্গল, জোয়াল এবং বিভিন্ন ধরণের বেতের পাটি (শীতলপাটি-কেয়াপাতার পাটি) ও অন্যান্য আসবাবপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।

রাস্তার উত্তর দিকজুড়ে হাঁস-মুরগি ও কবুতরের হাট। দুই পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকান-সব মিলিয়ে এক গ্রামীণ বাজারের দৃশ্য। স্থানীয় ও শহর থেকে আসা ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

এই হাটে নেই—এমন পণ্যের তালিকা করা কঠিন। বাঁশ-বেতের তৈরি বিভিন্ন পণ্য, শীতলপাটি , কেউ বসেছেন দা, কোদাল, খুন্তিসহ লোহার সামগ্রী নিয়ে। মৌসুমি সবজির বিশাল অংশে ভিড় লেগেই থাকে। খাসিয়া পান, বাংলা পান, সুপারি সবকিছুরই আলাদা জায়গা আছে। প্রতি রবিবার আর বৃহস্পতিবার বাজার ভিন্ন রূপ নেয় সাপ্তাহিক হাটে হিসেবে।

ক্রেতারা ঘুরে দেখছেন, দরদাম করছেন, পছন্দ হলে কিনে নিচ্ছেন। সময় যত গড়ায়, ভিড় তত বাড়ে। এই হাটের নিয়মই এমন—বেচাকেনা চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

বাজারের বয়স নিয়ে প্রবীণ ব্যবসায়ী শুনিল দাস বলেন, “প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো এই বাজারে একসময় এলাকার সবচেয়ে বড় হাট ছিল। প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হয়ে অনেক সময় মধ্যরাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলে।

বাঁশ-বেতের পণ্য বিক্রেতা অসিম মালাকার বলেন, “অনেক বছর ধরে এখানে পণ্য বিক্রি করি।” তার ভাষ্য, গেরস্তালির যা লাগে এই বাজারেই মেলে। শহর থেকেও মানুষ আসে কিনতে। এখানে  স্থানীয় ব্যবসায়ী ছাড়াও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এনে এখানে খুচরা দরে পণ্য বিক্রি করেন।

স্থানীয়রা জানান, বহু বছর ধরে এই বাজারের কারিগরেরা গ্রামীণ জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরি ও বিক্রি করে আসছেন। এই বাজারে পার্শ্ববর্তী এলাকার পাইকারেরা পণ্য সরবরাহ করেন এবং শহর থেকেও মানুষ গৃহস্থালির জিনিস কিনতে আসেন।

মাছের বাজারে খামারের মাছই বেশি পাওয়া যায়। অথচ একসময় হাওর-নদীর মাছেই ভরে উঠত বাজার সেই দৃশ্য আর নেই। মাঝেমধ্যে হাকালুকি হাওরের কিছু মাছ চোখে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দাসের বাজার কেবল একটি হাট নয়, এটি একটি ঐতিহ্য। গ্রামীণ জীবনের ভরসা হয়ে আজও টিকে আছে শতবর্ষী ‘দাসের বাজার’।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইন্টেল ওয়েব