রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে তিনি নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে রিকশায় চড়ে বের হন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ব্যক্তিগত সহকারী আব্দুর রব পান্না। রিকশাটি চালাচ্ছিলেন তার দীর্ঘদিনের রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস। সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে।
রিকশায় চড়ে তিনি নগরীর সাহেব বাজার এলাকার ‘মনুলাইট গার্ডেন’-এ তার ব্যক্তিগত অফিসে আসেন। এ সময় রাস্তার দুই পাশে থাকা মানুষদের দুহাত নেড়ে অভিবাদন জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিজানুর রহমান মিনুর রাজশাহীতে চলাচলের একমাত্র বাহন হলো রিকশা। বাজার করা থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক সব কাজেই তিনি রিকশার ওপর নির্ভর করেন। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী সদর আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পরও তিনি রিকশায় চড়েই নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছেন।
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে প্রায় ২৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক এ মেয়র। এরপর ভূমিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে রাজশাহী আসেন। নিজের শহরে ফেরার পর থেকেই কোনো প্রটোকল ছাড়াই তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে রিকশায় চলাচল করছেন।
মিজানুর রহমান মিনুর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ১১ বছর ধরে কাজ করা আব্দুর রব পান্না বলেন, ‘মিজানুর রহমান আগে থেকেই বাজার সদাই থেকে শুরু করে সব কাজ করতেন রিকশায় চড়ে। ভূমিমন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি কোনো ধরনের প্রটোকল ছাড়াই রিকশায় চলাচল করছেন। শনিবার তিনি নগরীর সাগরপাড়া এলাকার কাঁচা বাজারে গিয়ে সেখানকার সবজি ব্যবসায়ী ও মুরগি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করেছেন এবং কৌশল বিনিময় করেছেন। এখান থেকেই তিনি বাজার করতেন। তার সঙ্গে সব মানুষের আন্তরিক সম্পর্ক।
তিনি বলেন, এভাবে জনগণের সঙ্গে মিশে সবার সঙ্গে সম্পর্ক রেখে তিনি দেশের জন্য এবং সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে পারেন—এটা আমাদের আশা।
রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘১০ বছর ধরে তার রিকশা চালাচ্ছি। স্যার, আগে যেভাবে আমার রিকশাতে চড়ে চলাফেরা করতেন, ভূমিমন্ত্রী হওয়ার পরও কোনো প্রটোকল ছাড়াই রিকশায় চলাফেরা করছেন। এটা দেখে আমাদেরও ভালো লাগছে।’
রাজশাহী মহানগর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, রাজশাহী সদর আসন থেকে ৪৬ বছর পর এবং রাজশাহী জেলা থেকে ২১ বছর পর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেল রাজশাহী। এটি রাজশাহীবাসীকে উৎফুল্ল ও উচ্ছ্বসিত করেছে। আমরা চাই মিজানুর রহমান মিনু ভাই রাজশাহীসহ দেশবাসীর কাছে ‘মিনু ভাই’ হিসেবেই পরিচিত হবেন এবং রাজশাহী ও দেশের কল্যাণে কাজ করবেন।