সময়মতো সরকারি বুরো ধানের বীজ বিতরণ না হওয়ায় বাজার থেকে চড়া দামে বীজ ক্রয় করছেন কৃষকরা

মোঃ মুকিম উদ্দিন জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সঠিক সময়ে সরকারি প্রণোদনার বোরো ধানের বীজ বিতরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। এতে চাষাবাদের মৌসুমে সরকারি বীজের অপেক্ষায় না থেকে বেসরকারি কোম্পানির উচ্চমূল্যে বোরো ধানের বীজ কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এদিকে সরকারি বীজ বিতরণে বিলম্বের পেছনে বীজ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কৃষি বিভাগের যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষক।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বোরো মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই সরকারি প্রণোদনার বীজ বিতরণের প্রয়োজন থাকলেও যথাসময়ে তা কৃষকদের হাতে পৌঁছায় না। ফলে বাধ্য হয়ে বাজার থেকে উচ্চমূল্যে বীজ সংগ্রহ করতে হয়। এতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন।কৃষকদের দাবি, সরকারি বীজ বিতরণে বিলম্বের কারণে বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলো লাভবান হওয়ার সুযোগ পায়। কৃষকদের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে, বীজ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি বীজ বিতরণে বিলম্ব করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কৃষকরা জানান, জগন্নাথপুরের অধিকাংশ হাওর এলাকার কৃষক বোরো ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল। নির্ধারিত সময়ে বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণ করা অত্যান্ত জরুরী। সময়মতো বীজ না পেলে চাষাবাদ পিছিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আগাম বন্যায় ফসলহানির ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি বীজ যখন বিতরণ করা হয়, তখন অনেক কৃষক ইতোমধ্যে বাজার থেকে বীজ কিনে বীজতলা তৈরি করে ফেলেন। ফলে সরকারি প্রণোদনার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং প্রকৃত কৃষকরা যথাযথ সময়ে এর সুফল পান না।
স্থানীয় কৃষকরা সরকারি বীজ বিতরণের সময়সূচি আগাম প্রকাশ, উপযুক্ত সময়ে বীজ বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বীজ বিতরণে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধান এবং কোনো অনিয়ম বা যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কাওছার আহমদ জানান, জেলার কোথাও এখনও সরকারী বোর ধানের বীজ আসেনাই। আমরা কৃষকদের অসুবিধার বিষয় যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে বোর ধানের বীজ এসে আমাদের নিকট পৌঁছাবে।