বড়লেখায় গৃহবধূ মুন্নির মৃত্যু নিয়ে পুলিশের সংবাদ সম্মেলন

হানিফ পারভেজ
বড়লেখা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মরিয়ম আক্তার মুন্নি নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে তৈরি হওয়া রহস্যের মধ্যে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তার মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যাজনিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মুন্নির পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের এই অভিযোগও গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বড়লেখা থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান।
পুলিশ জানায়, গত ২১ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে বড়লেখার মুরিরগুল গ্রামে মুন্নির আত্মহত্যার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে বসতবাড়ির টয়লেটের টিনের চালার কাঠের তীরের সাথে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। পরে আইন ও বিধি অনুযায়ী সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাস্থলে মুন্নির বাবা হাজী মকবুল আলী মেয়ের মানসিক চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র দেখিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুরোধ করেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত প্রয়োজন হওয়ায় পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে পাঠায়। এ ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৪ ধারায় বড়লেখা থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়। এরপর মুন্নির বাবা-মা ও স্বজনেরা বড়লেখা উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়ির ননদ, শাশুড়ি ও ভাসুর তাকে নির্যাতন করে হত্যা করেছেন। তাদের দাবি, হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরিবারের এমন অভিযোগের মধ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পায়। প্রতিবেদনে চিকিৎসক উল্লেখ করেছেন, ‘ঝুলে থাকার কারণে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়েছে এবং চিকিৎসকের মত অনুযায়ী এটি জীবদ্দশায় সংঘটিত আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু।’
তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর মত থাকলেও পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের পথ বন্ধ হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে চিকিৎসক আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ দেয়া হলে তা গুরুত্বের সাথে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুন্নির মৃত্যুকে ‘হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বড়লেখা শহীদ মিনারে মানববন্ধনের ঘোষণাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ প্রকৃত তথ্য ও আইনগত অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, অসত্য বা উসকানিমূলক তথ্য প্রচার না করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানায়।
এতে জনমনে বিভ্রান্তির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।