
বিউটি পালের পক্ষে প্রতিবাদের ঝড়—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সাংবাদিকরা
এ রহমান, আওয়াজ সিলেট প্রতিনিধি, ফেঞ্চুগঞ্জ
বৃষ্টিময় আকাশের নিচে শালীনভাবে হাঁটতে হাঁটতে ‘শ্রাবণের মেঘ’ গানের সঙ্গে একটি ভিডিও ধারণ করে টিকটকে প্রকাশ করেন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পাল। পরবর্তীতে সেই ভিডিও টিকটক থেকে সংগ্রহ করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের লেখালেখি, মন্তব্য ও সমালোচনা শুরু হলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
তবে এরই মধ্যে বিউটি পালের পক্ষেও শুরু হয়েছে প্রতিবাদের ঝড়। তার সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকা, সাংবাদিকসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকে ‘শ্রাবণের মেঘ’ গান ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি ও পোস্টের মাধ্যমে তাকে নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা ও ট্রলের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
সমর্থকদের বক্তব্য, একটি সাধারণ ও শালীন ভিডিওকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে একজন নারীকে সামাজিকভাবে হেয় করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ এমন প্রশ্নও তুলেছেন—ভিডিও করার বিষয়টি যদি মূল সমস্যা না হয়, তাহলে কেন বিউটি পালকে নিয়ে এত সমালোচনা?
এদিকে, কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়।ফেঞ্চুগঞ্জের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া উচিত নয়।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে দায়ী করা উচিত নয়। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে ফেঞ্চুগঞ্জের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখাই হোক সবার অঙ্গীকার। একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে যেন কোনোভাবেই ধর্মীয় বিভাজন বা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি না হয়—এটাই সচেতন মানুষের প্রত্যাশা।