
ওসমানীনগর( সিলেট) প্রতিনিধি ::
সিলেটের ওসমানীনগরে একটি নামী মিষ্টি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের শাখাকে জরিমানা করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই জরিমানা করা হয়েছে বলে কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হলেও, প্রশাসন ও স্বয়ং ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন। মূলত বাসি মিষ্টি বিক্রির অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর বাজারে অবস্থিত ‘বনফুল’ অ্যান্ড কোম্পানির শাখায় বাসি মিষ্টি বিক্রির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশা। অভিযানকালে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং মেমো পর্যালোচনা করে বাসি মিষ্টি বিক্রির সত্যতা পাওয়া যায়।
আদালত পরিচালনাকালে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী স্বীকার করেন যে, মিষ্টিগুলো অনেক আগের এবং সেখানে পুরাতন ও নতুন মিষ্টি একসাথে মিশিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে অপরাধ স্বীকার করার পরপরই ওই কর্মচারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হলে, বনফুলের ম্যানেজার ওই কর্মচারীকে খুঁজে এনে হাজির করেন। পলায়নের অভিযোগ এবং বাসি মিষ্টি রাখার দায়ে সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারীকে সর্বমোট ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার অর্থ ইতিমধ্যেই সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।
ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘৫০ হাজার টাকা জরিমানা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে বনফুলের কর্মচারী আব্দুল মান্নান অভিযোগ করেন, তিনি ইউএনওকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করায় ইউএনও ক্ষুব্ধ হয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন।
তবে এ অভিযোগ নাকচ করেছেন বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির তাজপুর শাখার ম্যানেজার সুহেল বড়ুয়া। তিনি বলেন, আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি থাকায় জরিমানা করা হয়েছে। বিষয়টি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার পরই ইউএনও অভিযান পরিচালনা করেন।
বনফুলের আরেক কর্মচারী আবিদ জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। পরে শুনেছেন ইউএনও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস কনফারেন্সে মিলিত হন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা।
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশা বলেন, আপা’ বলা কোনো দণ্ডনীয় অপরাধ নয়। মোবাইল কোর্টে কাউকে ‘আপা’ বলার কারণে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়ার সুযোগ নেই। যারা এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছেন, তাদের বিষয়টি আরও যাচাই করে প্রকাশ করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, বাসি মিষ্টি পাওয়া গেছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের অপরাধ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
কোম্পানি ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে পৃথকভাবে জরিমানা করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও জানান, সর্বমোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোম্পানির ম্যানেজার সেই অর্থ পরিশোধ করেছেন।