
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদের মৃত্যু ও তার জানাজা এবং শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত আব্দুল হামিদ নামের এক মুরুব্বির বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।
আব্দুল হামিদের দাবি অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভোলায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে গেলে একাধিকবার তোফায়েল আহমেদের বাসভবনে অবস্থান করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তোফায়েল আহমেদ ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে গুরুত্ব দিতেন। তার বাসার দায়িত্বপ্রাপ্তদের প্রতিও তিনি অতিথিদের যথাযথ সম্মান ও আপ্যায়নের নির্দেশনা দিতেন বলে দাবি করা হয়।
এ প্রেক্ষাপটে তোফায়েল আহমেদের মৃত্যু-পরবর্তী শ্রদ্ধা নিবেদন ও জানাজা আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে কিছু মহল অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একজন মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত এবং এ ধরনের বিষয়ে প্রতিহিংসা বা দলীয় বিবেচনা স্থান পাওয়া উচিত নয়।
সমালোচকদের কেউ কেউ সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর মৃত্যুর পরের পরিস্থিতির সঙ্গেও তুলনা টেনে বলেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজে মানবিকতা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।
তাদের বক্তব্য, মৃত্যুর পর একজন মানুষের রাজনৈতিক পরিচয় নয়, মানবিক পরিচয়ই মুখ্য হয়ে ওঠে। তাই জানাজা, দাফন এবং শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের মতো বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রাখা উচিত।
পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের পাশাপাশি সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মৃত্যুর পর একজন মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন জাতীয় সংস্কৃতির অংশ হওয়া উচিত।