
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেও দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন যুবলীগের সাবেক নেতা মাহমুদুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে নীরবে কাজ করলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর ভূমিকা আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের নেতা–কর্মীদের সহায়তায়।
২০২৪ সালে শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। এই সময় থেকেই কারাবন্দী ও আত্মগোপনে থাকা দলীয় নেতা–কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেন মাহমুদুর রহমান। প্রবাসে থেকেও তিনি নিয়মিতভাবে আর্থিক সহায়তা, আইনি সহায়তা এবং দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয় তাঁর নিউইয়র্কের বাসভবনে। এতে প্রবাসী আওয়ামী লীগের নেতারা অংশ নেন এবং সেখান থেকেই পরবর্তী কর্মসূচির রূপরেখা নির্ধারিত হয়। পরবর্তীতে আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক কর্মীর জন্য আইনি সহায়তাও নিশ্চিত করেন তিনি।
শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, মানবিক দিক থেকেও সক্রিয় মাহমুদুর রহমান। সিলেটের বিভিন্ন এলাকা—যেমন দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ—এর কারাবন্দী ও পলাতক নেতা–কর্মীদের পরিবারের জন্য তহবিল গঠন করেন। এই তহবিল থেকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
গত এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি নীরবে দলীয় কর্মীদের সহায়তা করে আসছেন। বিশেষ করে গত দুই বছরে তাঁর সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ধর্মীয় উৎসব যেমন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনি নিয়মিত অর্থ সহায়তা দিয়ে আসছেন, যা কর্মীদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
তবে এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বিতর্কের বাইরে নন। একটি বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় তাঁকে প্রধান আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই ঘটনায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন—যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রবাসে থেকেও দলীয় তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন মাহমুদুর রহমান। তাঁর এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা দলীয় কর্মীদের মাঝে একটি নির্ভরতার জায়গা তৈরি করেছে—যা ভবিষ্যতের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।