
ওসমানীনগর প্রতিনিধি::
ভোরের আলো ফোটার আগেই সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে শুরু হয় যাত্রীবাহী বাসগুলোর ব্যস্ততা। প্রতিদিনের মতোই কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন, কেউবা ঘরে ফেরার আশায় যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু একটি বেপরোয়া ওভারটেক মুহূর্তেই বদলে দেয় সবকিছু। সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান দুই পরিবহনকর্মী— থেমে যায় দুটি পরিবারের স্বপ্ন ও সংগ্রাম।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। সিলেট থেকে ছেড়ে আসা এনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দয়ামীর এলাকায় সামনে থাকা ইউনিক পরিবহনের একটি বাসকে ওভারটেক করার চেষ্টা করে। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা শ্যামলী পরিবহনের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় দুটি বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে ওঠে ব্যস্ত মহাসড়ক। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান শ্যামলী পরিবহনের সুপারভাইজার বকুল রবিদাস (২৮) ও হেলপার মজিবুর রহমান (৫৫)।
নিহত বকুল রবিদাস ছিলেন ওসমানীনগরের দয়ামীর ইউনিয়নের কুরুয়া গ্রামের বাসিন্দা। বাবা ময়না রবিদাসের দুই ছেলের ছোট ছেলে ছিলেন তিনি। দীর্ঘ ৪–৫ বছর ধরে শ্যামলী পরিবহনে সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করছিলেন বকুল। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, অল্প বয়সেই সংসারের হাল ধরেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে মজিবুর রহমান ছিলেন শরিয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার দশাই হাওলাদার গ্রামের বাসিন্দা। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও জীবিকার তাগিদে হেলপারের কাজ করতেন। পরিবারের জন্য প্রতিদিন জীবন ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নামাই ছিল তার নিয়তি।
দুর্ঘটনায় বাসচালকসহ অন্তত ১২–১৩ জন যাত্রী আহত হন। কেউ বাসের ভেতরে আটকে পড়েন, কেউ ছিটকে পড়েন সড়কে। খবর পেয়ে তাজপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।
দুর্ঘটনার পরপরই সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ও ওসমানীনগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় রেকারের মাধ্যমে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে নেওয়া হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এনা পরিবহনের বাসটি ওভারটেক করার সময় বিপরীতমুখী শ্যামলী পরিবহনের বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুইজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।
প্রতিদিনই দেশের মহাসড়কগুলোতে ঘটছে এমন দুর্ঘটনা। বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক আর দুর্বল নজরদারির দায় কার— সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এনেছে ওসমানীনগরের এই দুর্ঘটনা। অথচ প্রতিটি দুর্ঘটনার পেছনে লুকিয়ে থাকে এমনই অগণিত বকুল ও মজিবুরের না বলা গল্প।