
মোঃ মুকিম উদ্দিন আওয়াজ সিলেট প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে উপজেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি ও পৌর সভার সাবেক মেয়র সর্বজনপ্রিয় নেতা আক্তারুজ্জামান আক্তার এর বহিষ্কারাদেশ ভুলবশত প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। বুধবার (১৭ নভেম্বর) রাতে বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ভুলবশত আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সুনামগঞ্জ জেলাধীন জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান এর বহিস্কার প্রত্যাহার করা হয়েছিলো। সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান এর বহিস্কার আদেশ বহাল থাকবে।
এর আগে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সারাদেশে ৭৪ নেতার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ ও পদ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএনপি। এর মধ্যে জগন্নাথপুরে উপজেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি ও পৌর সভার সাবেক মেয়র সর্বজনপ্রিয় নেতা আক্তারুজ্জামান আক্তার নামও ছিল।
এ দিকে সামাজিক বিষয়টি জগন্নাথপুর উপজেলা ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই লেখেন, দীর্ঘদিন পর আজ ফেসবুকে দেখলাম জগন্নাথপুর উপজেলার সর্বজনপ্রিয় নেতা আক্তারুজ্জামান আক্তার ভাইয়ের বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। মুহূর্তেই এলাকার মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বইতে শুরু করে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আরেকটি পোস্টে দেখা গেল উক্ত সংবাদটি ভুলবশত প্রচারিত, বাস্তবে তাঁর বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হয়নি। এটা কোন নাটক? এমন বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলো কে? জনগণ এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর জানতে চায়। একজন জনপ্রিয়, নিবেদিতপ্রাণ নেতা যিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, তাঁকে দলের বাইরে রেখে কী লাভ? দেশের বিভিন্ন স্থরের অসংখ্য নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও, কেবলমাত্র আক্তার ভাইয়ের ক্ষেত্রে কেন এই ব্যতিক্রম? জনগণ মনে করে, দলের প্রতি তাঁর অবদান অনস্বীকার্য, তাঁর জনপ্রিয়তা জনমানসে গভীর এবং তিনি দলের অমূল্য সম্পদ তাকে বাদ দিয়ে দল শক্তিশালী হয় না, বরং দুর্বল হয়। আমরা প্রত্যাশা করি দলীয় হাইকমান্ড বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে এবং জগন্নাথপুরবাসীর প্রিয় নেতা আক্তারুজ্জামান আক্তার ভাইয়ের বহিষ্কার আদেশ দ্রুত প্রত্যাহার করবে। কারণ দল মানুষের ভালোবাসার উপরই টিকে থাকে, বিভ্রান্তির উপর নয়।
এ ব্যাপারে জানতে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপি আহবায়ক কলিম উদ্দিন মিলনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ না করায় আলাপ করা সম্ভব হয় নাই।
জগন্নাথপুরে বালু খোকেদের বিরুদ্ধে অভিযানে এসিল্যান্ড
মোঃ মুকিম উদ্দিন সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের আশারকান্দি ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. মহসীন উদ্দীন এ অভিযান পরিচালনা করেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ভোরে উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের ফেচিবাজার সংলগ্ন কুশিয়ারা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কুশিয়ারা নদী হতে অবৈধভাবে ড্রেজার দ্বারা বালু উত্তোলনের অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর আওতায় ৩ জনকে ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ডে ও ২ জনকে ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়। বালুভর্তি ইঞ্জিন সহ ৩টি বাল্কহেড বলগেট সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে আশারকান্দি ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যানের জিম্মায় প্রদান করা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. মহসীন উদ্দীন বলেন, আজ ভোরে উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের ফেচিবাজার সংলগ্ন কুশিয়ারা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করা হয়। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন, জগন্নাথপুরের এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।