মোঃ জাহান মিয়া, বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি ::
শরতের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, বাতাসে উৎসবের আগমনী সুর। আর সেই সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মাটির শরীরে দেবীর রূপ আঁকতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। খড়ের কাঠামো, বাঁশের বাঁধন আর মাটির প্রলেপে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার মুখ। কারিগরের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় যেন নিস্তব্ধ মাটিও অপেক্ষা করছে প্রাণ ফিরে পাওয়ার।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপে এখন মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে গভীর রাত—কখনো মাটি মাখছেন, কখনো প্রতিমার অবয়ব গড়ছেন, আবার কখনো রঙ-তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলছেন দেবীর চোখ, মুখ ও অলংকার।
প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ উপজেলায় এবার ২৬টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গা পূজা। আর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হওয়া পূজা মন্ডপগুলো ঘুরে দেখে গেছে, বেশ কিছু মন্ডপে চলছে প্রতিমা নিমার্ণের কাজ। আবার অনেক মন্ডপের প্রতিমা নিমার্ণ করা অন্যত্র। শেষ দিকে এসে শিল্পীরা আপন মনে নিজেদের নির্মাণকৃত প্রতিমাগুলো ফুটিয়ে তুলছেন।
বিশ্বনাথ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুনীল কান্তি দেব ও সাধারণ সম্পাদক কানু রঞ্জন দেব জানিয়েছেন এবছর বিশ্বনাথে ২৬টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২৩টি সার্বজনীন ও ৩টি ব্যক্তিগত। সর্বমহলের সার্বিক সহযোগীতায় অতীতের ন্যায় এবারও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্প্রতি বজায় রেখে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করা সম্ভব হবে।
বিশ্বনাথ পৌর শহরের পুরাণ বাজারস্থ শ্রী শ্রী শনি মন্দিরের পুরোহিত রণজিৎ ভট্টাচার্য্য রঞ্জু জানিয়েছেন, ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী পক্ষের সূচনা হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী এবং ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। এবার পৃথিবীতে দশভুজার আগমন হবে ঘোটকের পিঠে চড়ে আর কৈলাশে ফিরবেন নৌকায়।
সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের কার্যনির্বাহী সদস্য বিভাংশু গুন বিভু বলেন, আশা করি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবে ও উৎসব মুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি প্রশাসন’সহ সর্বমহলের সার্বিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উপজেলার ২৬টি পূজা মণ্ডপের মধ্যে লামাকাজী ইউনিয়নে ৪টি, খাজাঞ্চী ইউনিয়নে ৪টি, রামপাশা ইউনিয়নে ১টি, অলংকারী ইউনিয়নে ১টি, দৌলতপুর ইউনিয়নে ৩টি, বিশ্বনাথ পৌরসভায় ৪টি, দেওকলস ইউনিয়নে ২টি, দশঘর ইউনিয়নে ৪টি সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ রয়েছে। এছাড়া উপজেলার লামাকাজী ইউনিয়নে ১টি, বিশ্বনাথ ইউনিয়নে ১টি ও অলংকারী ইউনিয়নে ১ টি ব্যক্তিগত পূজা মণ্ডপ রয়েছে।
বিশ্বনাথ উপজেলা নির্বাহী নির্বাহী (ইউএনও) মোঃ জাহিদ বিন কাশেম বলেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলোচনা করে সিসি ক্যামেরার আওতায় ও ভলান্টিয়ার দ্বারা সার্বক্ষনিক পাহাড়া দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পূর্বে যেহেতু বিশ্বনাথ উপজেলায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নাই সেহেতু এবারও অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটবে না-বলে আশা করি।