মোঃ জাহান বিশ্বনাথ(সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দোলতপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।কর্মসূচি গুলোর মধ্যে রয়েছে বর্ণাঢ্য র্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুনর্মিলনী ও স্মারক ম্যাগাজিন প্রকাশসহ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শতবর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী কমিটির আহ্বায়ক এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী।
লিখিত বক্তব্যে আশরাফ আলী বলেন, ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় ২০২৬ সালে গৌরবময় শতবর্ষে পদার্পণ করেছে। এই দীর্ঘ পথচলা শুধু একটি বিদ্যালয়ের ইতিহাস নয়, বরং এলাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক অগ্রগতিরও ইতিহাস।
তিনি জানান, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবীদের উদ্যোগে ১৯২৬ সালে পুরান রাজাগঞ্জ বাজারে ‘একলিমিয়া এম. ই. (Minor Education) মাদ্রাসা’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি পুরান রাজাগঞ্জ থেকে বর্তমান বৈরাগী বাজারে স্থানান্তরিত হয়।
শিক্ষার বিস্তারের ধারাবাহিকতায় ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি জুনিয়র স্কুলে উন্নীত হয়। এরপর ১৯৭৪ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক বিভাগের স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৭৬ সালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরে ১৯৮৬ সালে চালু হয় বিজ্ঞান শাখা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষাগত সাফল্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে শতভাগ পাসের গৌরব অর্জনের পাশাপাশি সিলেট শিক্ষা বোর্ডে দশম স্থান লাভ করে প্রতিষ্ঠানটি।
শতবর্ষের দীর্ঘ পথচলায় বিদ্যালয় থেকে বহু জ্ঞানী, গুণী, শিক্ষক, সমাজসেবী, পেশাজীবী ও কৃতী মানুষ বেরিয়ে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের অবদান বিদ্যালয়ের সুনামকে সমৃদ্ধ করেছে।
শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পর্কে আশরাফ আলী বলেন, ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর অন্যতম প্রধান উদ্যোগ ছিল বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে তোলা। এ লক্ষ্যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একক উদ্যোগে নয়, বরং সর্বসাধারণের অংশগ্রহণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে সর্বসাধারণের সমন্বয়ে শতবর্ষ পূর্তি ও পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটি, কার্যনির্বাহী কমিটি এবং বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য একাধিক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।
শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যেসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে শতবর্ষ স্মারক ম্যাগাজিন প্রকাশ, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ডেটাবেজ তৈরি, বর্ণাঢ্য র্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণে পুনর্মিলনী।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি ২০২৭ শতবর্ষ পূর্তি ও পুনর্মিলনীর মূল আয়োজন করার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের পর চূড়ান্ত তারিখ ও কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
লিখিত বক্তব্যের শেষাংশে শতবর্ষ উদযাপনকে শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন হিসেবে না দেখে প্রাক্তন ও বর্তমান প্রজন্মের মিলনমেলা, ঐতিহ্যের পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন প্রত্যয়ের সূচনা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রাক্তন শিক্ষার্থী, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক, এলাকাবাসী এবং বিদ্যালয়ের শুভানুধ্যায়ীদের শতবর্ষের আয়োজনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সঞ্চালনা করেন কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র যুগ্ম-সদস্য সচিব ও আপ্যায়ন উপ কমিটির আহবায়ক আব্দুর রশিদ ইউসুফ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন, উত্তর বিশ্বনাথ আমজদ উল্লাহ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও শতবর্ষ উদযাপন ও পুনর্মিলনী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ, একলিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুজ্জামান খান, পালেরচক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাহার হেকিম উদ্দিন, একলিমিয়া দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সদস্য সচিব আশরাফ আহমেদ, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা উপকমিটির আহ্বায়ক ডা. হোসেন আহমদ, কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আনিছুজ্জামান খান, অর্থ ও বাজেট উপকমিটির আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহার, রেজিস্ট্রেশন ও র্যাফেল ড্র উপকমিটির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান, সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য সচিব ফিরোজ আলী, মঞ্চ সাজসজ্জা উপকমিটির আহবায়ক সেবুল মিয়া ,যুগ্ম সদস্য সচিব রাজন খান, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়েজ আহমদ ফাহিম, একলিমিয়া দ্বি-পাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল ইসলাম, আছির উদ্দিন, মাসুম আহমদসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টরা। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, অর্থ ও বাজেট কমিটি যুগ্ম সচিব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক মো,ছমরু মিয়া।