মোঃ মুকিম উদ্দিন জগন্নাথপুর প্রতিনিধিঃ-
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের সফাত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়, জগদীশপুর প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন বিহারী দাসের অবসরোত্তর বিদায় ও একই সাথে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় আজীবন দাতা সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান এবং বিদ্যালয়ের নতুন হলরুমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আবুল খায়ের এর সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন জনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি, দরগাপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ জালাল উদ্দিন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংবর্ধিত অতিথি বিজন বিহারী দাস, বিদ্যালয়ের সাবেক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শব্বির আহমদ চৌধুরী, কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদেরচেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিক মিয়া, ডাক্তার মাশুক আহমদ, বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী হিফজুর রহমান হিরন মিয়া, আটপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এইচ এম আজমল, পাড়ারগাঁও আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ এর প্রিন্সিপাল সাইফুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল গাফ্ফার, জগদীশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেলিনা বেগম, দাতা সদস্য আজাদ মিয়া তালুকদার, জাকুয়ান কোরেশী, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র দেলোওয়ার হোসেন দুলা, জাবেদ কোরেশী ও হাজি আব্দুস সোবহান,লুৎফুর রহমান, আনিছুর রহমান তুতি, মাওলানা বদরুল আলম, আমিরুল ইসলাম দিলশাদ, মুফতি সুহেল আহমদ, দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ঈশিতা দাস, নবম শ্রে্রণীর শিক্ষার্থী জেনি আচার্য্য প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিজন বিহারী দাসের সুদীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের কর্মময় দিনগুলোর কথা স্মরণ করে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন।
বক্তারা বলেন, "বিজন বিহারী দাস ছিলেন এই অঞ্চলের শিক্ষার আলো ছড়ানোর এক অন্যতম কারিগর। তাঁর সততা, নিষ্ঠা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে সফাত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাঁর এই অবদান এই এলাকার মানুষ আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।"
বিদায়ী সংবর্ধিত অতিথি বিজন বিহারী দাস তাঁর বক্তব্যে বলেন, "শিক্ষকতা কেবল আমার পেশা ছিল না, এটি ছিল আমার জীবনের ব্রত। দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ম্যানেজিং কমিটির যে ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমি পেয়েছি, তা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। আমি বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সকল শিক্ষার্থীর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।"
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে আর্থিক ও নানাভাবে সহযোগিতা করার স্বীকৃতিস্বরূপ বিদ্যালয়ের আজীবন দাতা সদস্য ও তাদের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
এর আগে ফিতা কেটে বিদ্যালয়ের নতুন আধুনিক হলরুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। এই হলরুম উদ্বোধনের ফলে বিদ্যালয়ের-শিক্ষা কার্যক্রম, বিভিন্ন সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো বলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আনন্দ প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষভাগে বিদায়ী শিক্ষক বিজন বিহারী দাসকে ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক মণ্ডলী এবং বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানটিতে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার সর্বস্তরের উৎসুক জনতার ঢল নামে।