হানিফ পারভেজ,বড়লেখা প্রতিনিধি :- বর্ষা ও শীতকাল। ঐতিহ্যবাহী এই হাওর দুই মৌসুমেই ভিন্ন আঙ্গিকে তার রূপ মাধুর্য আর জীববৈচিত্র্যের সরল-সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করে প্রকৃতিপ্রেমীদের বা ভ্রমণপিয়াসীদের। মিঠা পানির মাছ আর জলজ প্রাকৃতিক সম্পদের অভয়াশ্রম হিসেবে খ্যাতি দেশের সবচেয়ে বড় ও এশিয়ার অন্যতম হাওর হাকালুকি। ২২ আগষ্ট শনিবার জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতার শাখার সহ সভাপতি বদরুল ইসলামের সার্বিক সহযোগিতায় ঘুরে আসলাম হাকালুকির হাওর থেকে।বড়লেখা জুড়ির ১৭ জনের একটি চৌকস ও ভ্রমণপিয়াসী টিম সাথে গুনি শিল্পীদের নিয়ে নাচে গানে আনন্দ আড্ডার মধ্যে দিয়ে নৌকা যোগে সেখানে গিয়েছিলাম। মনে রাখার মত একটি দিন ছিল। ভালোবাসা আর ভালোলাগা দিনটি উপভোগ করেছি অনেক আনন্দে।বাহ, চমৎকার একটি ভ্রমণ! গান ও আড্ডার হুল্লোড়ে হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ ও মনে রাখার মতো। দুঃখ কষ্ট এবং কাজের চাপ হেরে গিয়েছিল প্রকৃতির সৌন্দর্যের কাছে।
সিলেট বিভাগের দু’টি জেলার ৬টি উপজেলা (কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) জুড়ে ছোট-বড় ২৩৮টি বিল নিয়ে এ হাওরের আয়তন ২০ হাজার ৪শ’ হেক্টর। হাওর হাকালুকি শুধু আয়তনে বড় এমনটি নয়। এই হাওরেই স্থায়ী নিবাস দেশীয় বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির নানা জলজপ্রাণি ও উদ্ভিদের। আর এরইসঙ্গে জীবন-জীবিকায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে হাওর তীরের কৃষি, মৎস্য ও শ্রমজীবী প্রায় ৪ লাখেরও মানুষের।
হাওর তীরের মানুষ হাকালুকিতে বোরো ধান, শীতকালীন ফসল চাষাবাদ আর গরু, মহিষ, হাঁস পালন ও মৎস্য আহরণ করেই জীবন চালায়। হাকালুকি হাওরই তাদের জীবন-জীবিকার অন্যতম উৎস। পর্যটন খাতেও রাজস্ব আয়ের ব্যাপক সম্ভাবনা আছে এ হাওরের।
শুষ্ক মৌসুমে হাওরজুড়ে গরু-মহিষের বাতান, অতিথি পাখির সরব বিচরণ, সরিষা ভুট্টাসহ নানান জাতের সবজি চাষ আর হাওরের বুকে গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য চোখে পড়ে। উল্টো চিত্র বর্ষা মৌসুমে। বিশাল জলরাশির ঢেউ, আফাল বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে থই থই পানি।
হিজল, করচ, জারুল, বরুণ, মূর্তাসহ নানা জাতের জলজ গাছগাছালি ডুবন্ত থাকা আর মাছ সংগ্রহে ছোট-বড় নৌকার চলাচলের ব্যস্ততা ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব জানান দেয় হাকালুকি হাওরের মনোরম দৃশ্য।
মন ভালো রাখতে ঘুরে আসতে পারেন হাকালুকির হাওর।