মোঃ মুকিম উদ্দিন জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:-
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নেে অবস্থিত কামারখাল উপস্বাস্থ কেন্দ্রে দীর্ঘ দিন যাবৎ তীব্র জনবল সংকট থাকার কারনে সাধারণ মানুষের মৌলিক চিকিৎসা সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রবিবার ২৩ আগস্ট সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নিয়মিত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় স্টাফ না থাকায় কেন্দ্রটির দরজা সপ্তাহের বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকে, ফলে দুর-দুরান্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিলেও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় উপজেলার অন্যান্য স্থানে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিতির কারনে উপস্বাস্থ কেন্দ্রটি সপ্তাহের অধিকাংশ দিনই তালাবদ্ধ থাকে। এ কেন্দ্রটিতে জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়ন, পার্শ্ববর্তী শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের ও দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের কিছু হাওর বেস্টিত গ্রামীণ এলাকার প্রায় তিন লক্ষ সাধারণ ও দরিদ্র রোগীরা ছোটখাটো চিকিৎসার জন্য আসলে কাউকে না পেয়ে জেলা সদর ও উপজেলা সদরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। রোগূর তুলনায় ডাক্তা ও জনবল নেই বললেও চলে। তবে কামারখাল উপস্বাস্থ কেন্দ্রটিকে ২০ শয্যায় উন্নীত করা হলে উপজেলা ও জেলা সদরের হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে। তিন উপজেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবায় ভোগান্তি লাগব হবে।
কামারখাল উপস্বাস্থ কেন্দ্রটি ১৯২৬ সালে প্রতিষ্টিত হওয়ার পর থেকে বেশীরভাগ সময় ১জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা কার্যক্রম। ফলে দুর্গম এই কলকলিয়া ইউনিয়নসহ শান্তিগঞ্জের দরগাপাশা ইউনিয়নের ও দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের কিছু গ্রামের গরীব অসহায় রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রম জেলা সদর ও উপজেলা সদরে গিয়ে করাতে হচ্ছে এতে ভোগান্তির শেষ নেই মানুষের। এছাড়াও জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ টি উপস্বাস্থ কেন্দ্রের সবকটিরই স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমও খুড়িয়ে চলছে।
উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের কামারখাল উপস্বাস্থ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (ডিপ্লমা) শহিদুল্লাহ কায়সার কামারখাল উপস্বাস্থ কেন্দ্রে সপ্তাহের দুই দিন প্রায় শতাধিক রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। মিডওয়াইফ, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার এই দুইটি পদ ছাড়া বাকি মেডিকেল অফিসার, অফিস সহকারী, ফার্মাসিস্টসহ উপস্বাস্থ কেন্দ্রের অন্যান্য সকল পদ দীর্ঘ দিন ধরে খালি রয়েছে। জনবল সংকটের কারনে একাই সবকিছু সামলাতে হচ্ছে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার। চিকিৎসক না থাকায় রোগীদের ভোগান্তি প্রকট আকার ধারন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী মানুষের দাবী অবিলম্বে এই উপস্বাস্থ কেন্দ্রটি ২০ শয্যায় উন্নীত করেস্থায়ী চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও সুনামগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য জরুরি হস্তক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার আহ্বান জানান।
সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন ডাঃ জসিম উদ্দিন জানান, জেলার সব হাসপাতালে ডাক্তার সংকট। তবে জগন্নাথপুর উপজেলায় সব হাসপাতালে ডাক্তার সংকট প্রকট। এব্যাপারে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অবহিত করেছি। ডাক্তারের চাহিদা জানিয়েছি।