মোঃ মুকিম উদ্দিন জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
মানবপাচারকারী চক্রের দালালের মাধ্যমে গত ৩ আগস্ট গ্রিসের উদ্দেশে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করা নৌকাটিতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি ছিল। পথে বোট নষ্ট ও খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় ভূমধ্যসাগরে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে এরমধ্যে সুনামগঞ্জের আটজন রয়েছেন। তন্মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার দুই জন।
হাওরের জেলা সুনামগঞ্জ। এই অঞ্চলের তরুণরা উন্নত জীবনের আশায় দালালের মাধ্যমে দেশ ছেড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছেন প্রবাসে। তবে সেই প্রবাসে যেতে গিয়ে কেউ মাফিয়া চক্রের পাল্লায় পড়েছেন, কেউ কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরছেন আবার কেউবা চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছেন সমুদ্রের গভীর লোনা জলে।
সম্প্রতি সুনামগঞ্জের বেশ কয়েকজন যুবক ইউরোপের দেশ গ্রিসে যাওয়ার জন্য গত জুন মাসে দালালের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ হয়ে লিবিয়া পৌঁছান। এরপর গত ৩ আগস্ট রাতে সবাই নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। যাত্রার দিন ও আগে অনেকেই দেশে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ নেই।
তারা দুই জন হলেন- জগন্নাথপুর উপজেলার বাগময়না গ্রামের জুয়েল আহমদ টিপু, গন্ধর্বপুর গ্রামের হাবিব উল্লাহ।
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে রানীগঞ্জের বাগময়না গ্রামের জুয়েল আহমদ টিপু (২৫) এর মৃত্যুর খবর প্রচার হলেও টিপুর স্বজনরা জানিয়েছেন, সে ১২ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট রাতে অভিবাসন প্রত্যাশীকে নিয়ে গ্রিসের উদ্দেশে লিবিয়ার তাবারুক উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে ওই নৌকাটি। তাতে থাকা ৪২ জনের মধ্যে ৩৮ জনই বাংলাদেশি বলে গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে।
জীবিত উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণ পরই ঝড়ের কবলে পড়ে ছোট্ট রাবার নৌকায় থাকা খাবার ও পানির মজুত সাগরে ভেসে যায়। এরপর খাবার ও পানি ছাড়াই নৌকাটি নিয়ে বিপজ্জনক যাত্রা অব্যাহত রাখেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা। গ্রিসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পর হঠাৎ নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নৌকাটি সাগরে ভাসতে থাকে। এভাবে টানা নয় দিন ভূমধ্যসাগরে ভেসে থাকার পর স্রোতের টানে নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলের কাছে পৌঁছায় বলে তারা জানান। পরে মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৮ জনকে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান বলেন, প্রথমে জানা গিয়েছিল সুনামগঞ্জের কয়েকজনেক ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। যারা উদ্ধার হয়েছে, তাদের মাধ্যমে পরবর্তীতে জানা যায়, বেশ কয়েকজন মারা গিয়েছেন। প্রকৃত তথ্য উদঘাটন ও সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
এমন ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে নিখোঁজদের পরিবারগুলোতে চলছে আহাজারি।