মোঃ মুকিম উদ্দিন জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় অতিবৃষ্টি ও অকাল বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারী প্রনোদনা ও মানবিক সহায়তার তালিকা প্রনয়নে চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার অনিল চন্দ্র দাস ও ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যসহ দুই সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠছে।
অভিযোগ পত্র থেকে জানা যায়, সাম্প্রতিকালে অতি বৃষ্টিতে বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হলে উপজেলার চিলাউড়া—হলদিপুর ইউনিয়নের ১ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভুরাখালী ও বাউধরনের গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নামের তালিকা গ্রহণ করেন স্থানীয় মেম্বার (ইউপি সদস্য)। সম্প্রতি সরকারি বরাদ্দ বিতরণকালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম বাদ দিয়ে কৃষি কাজে জড়িত নয় এমন সব লোকজনের মধ্যে সরকারি অনুদান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, বর্গাচাষী, ও প্রান্তিক চাষীদের বাদ দিয়ে স্থানীয় আত্মীয়স্বজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এতে প্রকৃত কৃষকরা সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে কষ্টে আছেন।
বাউধরন গ্রামের আব্দুল হামিদ বলেন, সরকারি সাহায্যে দেয়া হবে বলে মেম্বার সাহেব আমাদের কাছ থেকে নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি দেন। কিন্তু বিতরণকালে আমাদেরকে অনুদান না দিয়ে যারা কৃষক নন তাদেরকে সরকারি চাল ও নগদ অর্থ দেয়া হয়েছে। এতে করে আমরা আসল ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বঞ্চিত হয়েছি। এবছর তিনি ৮ কেদার জমিনে বোরো ফসল আবাদ করেছিলেন। অতিবৃষ্টিতে সব ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কষ্টে জীবন যাপন করছেন বলে তিনি জানান।
ভুরাখালী গ্রামের আবজল, মুক্তার হোসনসহ একাধিক কৃষক জানান, আমরা হাওরের মানুষ। বোরো ফসল আমাদের সারা বছরের ভরণ পোষণের একমাত্র মাধ্যম। এবছর অতিবর্ষণে বোরো ফসল হারিয়ে আমরা এখন নিঃস্ব। সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে বলে আমাদের নাম সংগ্রহ করা হলেও সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়নি। তালিকায় স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সালাউদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে বরাদ্দ বিতরণ করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন বলেন, অভিযোপত্র পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।