ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ, সাতবারের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দবিরুল ইসলামের শেষ বিদায়কে ঘিরে শনিবার বালিয়াডাঙ্গীতে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। সেই আবেগকে আরও গভীর করে তোলে কারাগারে থাকা তার ছেলে ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম সুজনের উপস্থিতি।
বাবার জানাজায় অংশ নিতে সাত ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে শনিবার দুপুরে দিনাজপুর কারাগার থেকে বালিয়াডাঙ্গীর বড়বাড়ি ইউনিয়নের ডাঙ্গী বাজারে আসেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে জানাজার মাঠে আনা হয়।
দীর্ঘদিন পর এলাকাবাসীর সামনে উপস্থিত হন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তাকে এক নজর দেখতে জানাজাস্থল ও আশপাশের এলাকায় মানুষের ঢল নামে। অনেকেই শোকের পাশাপাশি বাবা-ছেলের এই শেষ সাক্ষাতের মুহূর্তকে হৃদয়বিদারক হিসেবে বর্ণনা করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মো. দবিরুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমূলক নানা উদ্যোগের কারণে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে বিশেষ স্থান দখল করে ছিলেন।
এদিকে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে দিনাজপুর কারাগারে বন্দী রয়েছেন তার ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজন। বাবার মৃত্যুতে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে সীমিত সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।
জানাজা শেষে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রবীণ এই রাজনীতিকের মৃত্যুতে ঠাকুরগাঁও জুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। তার শেষ বিদায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে কতটা জায়গা করে নিয়েছিলেন।