মোঃ মুকিম উদ্দিন জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ও শিলাবৃষ্টিতে যেমন বোরো ধান ও শাকসবজি নষ্ট হওয়ায় সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ডুবে গেছে ফসলী জমি। এতে ৫ হাজার কোটি টাকার ধান ঘরে তুলা নিয়ে শঙ্কায় ১০ লাখ কৃষক।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাওরের জেলা সুনামগঞ্জ।
জেলার কৃষকদের মুখে হাসি ফুটে হাওরের উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে পারলে। চলতি মৌসুমে জেলায় ঝড় বৃষ্টি ও শিলা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ধান ঘরে তোলা নিয়ে শঙ্কায় পড়েবৃষ্ছেটিন হাওরের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা।
বিশেষ করে ১৫ এপ্রিল রাতে সুনামগঞ্জে বছরের প্রথম মৌসুমের বৃষ্টিপাতের সঙ্গে শুরু হয় শিলা বৃষ্টি। তারপরে পর্যায়ক্রমে এই বৃষ্টিপাত সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে। পাশাপাশি গতকাল বিকেলে হঠাৎ করে জেলায় আকাশ কালো করে ধমকা ঝড় হওয়া, ভারি বৃষ্টিপাত ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এতে হাওরের দাঁড়িয়ে থাকা কৃষকের স্বপ্নের বোরে ধান দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সেই সঙ্গে হাওরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায় ফসল।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর হাওরের ২ লাখ ২৩ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়। যেখান থেকে ১৪ লাখ টন ধান উৎপাদন হওয়ার কথা রয়েছে যার বাজার মূল্য ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা।
হাওরের কৃষক আলা উদ্দিন মিয়া বলেন, যেভাবে শিলাবৃষ্টি হচ্ছে এতে হাওরের ধান বেড়ে উঠার আগেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে হাওরজুড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, কৃষকের কষ্ট দেখার কেউ নেই। হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে কৃষি বিভাগের কোনোও কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে আসেনি। এমনকি পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনোও উদ্যােগ নেয়নি।এদিকে, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, শিলাবৃষ্টিতে হাওরের বোরো ধান ও সবজির ক্ষতি হয়েছে। সেই সঙ্গে হাওরে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে সেটা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে। এটা আমাদের কাজ না।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কড়মকর্তা কাওসার আহমদ জানান, নলুয়ার হাওরের ৬০ ভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। জলাবদ্ধতা ও শ্রমিক সংকটে অনেক কৃষক ধান তুলতে কস্টে আছেন। এরমধ্যে টানাবৃষ্টি ফসলের কিছু ক্ষতি করেছে, নৌকা দিয়ে ধান উত্তোলনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য উদ্যােগ গ্রহণ করা হয়েছে।