মোঃ মুকিম উদ্দিন জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:-
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কামারখাল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বর্তমানে নিজেই যেন ‘রোগাক্রান্ত’ হয়ে পড়েছে। চিকিৎসক, জনবল সংকট এবং প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণে এই সরকারি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির চিকিৎসা সেবা এখন খাদের কিনারায়। প্রায় সময় বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ইউনিয়নের প্রায় দশ পনের হাজার সাধারণ মানুষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে ৫ টি অনুমোদিত পদথাকলেও বর্তমানে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ও মিড ওয়াইফ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ৩টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিলেও উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশে ২ দিন এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করে সপ্তাহের অন্যান্য দিন বন্ধ থাকে উপস্বাস্থ কেন্দ্রটি। ফলে হাওরবেষ্টিত এলাকার মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হন। বর্তমানে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি অধিকাংশ দিন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন দুর দুরান্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান। এতে ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঝুকিও বাড়ছে বহুগুণে। এ উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী আসেন সেবা নিতে। ডাক্তার না থাকায় ভালো সেবা পাচ্ছে না এই এলাকার লোকজন।
স্থানীয়রা জানান উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সপ্তাহে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকে স্বাস্থ্য সেবাবথেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। সেবা পেতে তাদের ১৫/২০ কিলোমিটার দুরে উপজেলা সদরে আসতে হয়। এতে সময় বেশী লাগার পাশাপাশি হয়রানি হয় এবং বাড়তি টাকা খরচ হয়ে থাকে। তবে স্থানীয় সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু নতুন নিয়োগ নয়, বরং যারা নিয়োগ পেয়েও কর্মস্থলে আসছেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত গরিব রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, স্বাস্থ্য সেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে নিয়ে আসাসহ দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কৃপেশ রঞ্জন রায় বলেন, উপজেলার প্রতিটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শূন্য পদে জনবল নিয়োগ করার জন্য সংসদ সদস্যের নিকট তালিকা প্রেরন করা হয়েছে।