মোঃ মুকিম উদ্দিন জগন্নাথপুর প্রতিনিধি :
লিবিয়া থেকে বোটে গ্রীস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের ১২ তরুণের সলিল সমাধির হৃদয় বিদারক, মর্মান্তিক ট্রাজেডির ঘটনায় ৯ দালালের বিরুদ্ধে দিরাই ও জগন্নাথপুর থানায় পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দিরাই থানায় নিহত সোহানের পিতা ছালিকুর রহমান সোমবার গভীর রাতে দিরাই উপজেলার সালেহ আহমদ, মিকাইল মিয়া, মুজিবুর রহমান ও দোয়ারাবাজার উপজেলার জসিম উদ্দিন এই চারজনের নামোল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করেন। জগন্নাথপুর থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামীরা হলেন, ছাতক উপজেলার বিলাল,দুলাল জগন্নাথপুরের আজিজুল ও দোয়ারাবাজার উপজেলার জসিম উদ্দিন ও এনাম।
জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দিরাই উপজেলার বাসুরী গ্রামের নিহত সোহানুর রহমানের বাবা ছালিকুর রহমান মামলায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত করে আসামি করেছেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী।
শনিবার (২৮ মার্চ) লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু ঘটে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার তিন উপজেলার ১২ জন রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের বরাতে জানা যায়, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় তীব্র খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়েন যাত্রীরা। পরবর্তীতে অনেকে মারা গেলে পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে দিরাই উপজেলার ৬ জন, দোয়ারাবাজার উপজেলার ১ জন এবং জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, দিরাই উপজেলার একটি চক্রের সঙ্গে জনপ্রতি প্রায় ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করে তারা লিবিয়া হয়ে গ্রিস যাওয়ার উদ্যোগ নেন। চুক্তি অনুযায়ী নিরাপদ ও বড় নৌযানে নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।