ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:- সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কুরকুছি খাল খনন কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। খনন করা মাটি খালের পাশেই ফেলে রাখা হচ্ছে, এতে অল্প সময়ের মধ্যেই খালটি আবার ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে প্রকল্পের অর্থ অপচয়ের অভিযোগও তুলেছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেভাবে খাল খনন করা হচ্ছে তাতে কৃষকদের কোনো উপকার হবে না। বর্ষা শুরু হলেই খালের পাড়ের মাটি ধসে খালে পড়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।
জানা যায়, প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুর গ্রাম থেকে সোনাপুর গ্রাম পর্যন্ত প্রায় সোয়া চার কিলোমিটার কুরকুছি খাল খনন, ব্লক নির্মাণসহ সংশ্লিষ্ট কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাফি এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী খালের দুই পাশে ৭ মিটার করে ঢাল (স্লোপ) তৈরি এবং তলদেশ ১ মিটার গভীর করে খনন করার কথা রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খালের পশ্চিম পাড় ভেঙে পূর্বপাড়ে চর সৃষ্টি হয়ে বড় একটি বাঁক তৈরি হয়েছে। ওই বাঁকে স্রোতের তোড়ে পশ্চিম পাড়ে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই চর কেটে খালের গতিপথ সোজা করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। বরং ভাটির দিকে গিয়ে খাল প্রশস্ত দেখাতে খালপাড় কেটে গ্রামের ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে, এতে ভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারী বলেন, “আমাদের বাড়িঘর ও কবরস্থান খালের ভাঙনে বিলীন হয়েছে। মরহুম সুনু মিয়া ও জিয়াদের বাড়িও এই খালে হারিয়ে গেছে। সাংবাদিক ফরিদ উদ্দীন ও মাছুম মাস্টারের বাড়ির পেছনের অংশ ভেঙে পড়েছে। এসব ভাঙনের মূল কারণ ওই চর, যা স্রোতকে পাড়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।” তিনি প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী ১ মিটার গভীরতা বৃদ্ধি, দুই পাশে ৭ মিটার স্লোপ এবং চর ও বাঁক কেটে খাল সোজা করার দাবি জানান।
মল্লিকপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নানা অনিয়মের অভিযোগে খাল খনন কাজ পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে যান। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন নিজেদের মতো করেই কাজ করে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদার পক্ষের নিযুক্ত ব্যক্তি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “এক্সকাভেটর আসা–যাওয়ার জন্য রাস্তা তৈরি করা প্রয়োজন।” তবে স্থানীয়রা এটিকে নিয়মবহির্ভূত কাজ বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বদরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর জানান, প্রকল্পের প্রাক্কলন অনুযায়ী গত বছরের জুলাই মাসে কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের আগস্টে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু হওয়ায় বর্ষার আগেই কাজ শেষ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
মল্লিকপুর ও সোনাপুর এলাকার বাসিন্দারা বলেন, পানির গতিপথ সোজা না করা হলে প্রতিবছরই খালে ভাঙন হবে। স্রোতের স্বাভাবিক গতিপথ ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এই খনন কাজের কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে খাল খনন কাজ পরিদর্শনে এসে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম বলেন, “প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগে খালের সঠিক সীমানা, গভীরতা ও প্রস্থ নির্ধারণ, নকশা ও শিডিউল তৈরির সময়ই কিছু ভুল ছিল। বর্তমানে সরেজমিনে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে এবং স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে চর ও বাঁক কেটে সমন্বয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”