মোঃ মুকিম উদ্দিন জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ জেলার ৫টি আসনের মধ্যে সবকয়টিতেই জয় পেয়েছে বিএনপি। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ৪টি আসনে নিকটতম ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ও একটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী। দলের পাঁচ প্রার্থীই জয় পাওয়ায় জেলা জুড়ে উল্লসিত বিএনপির কমীর্—সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা।
সুনামগঞ্জ—১ (ধর্মপাশা—মধ্যনগর—তাহিরপুর—জামালগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল জয়ী হয়েছেন। এতে বিএনপি প্রার্থী সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৭৭৪ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা উপাধ্যক্ষ তোফায়েল আহমদ খান পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৬ ভোট, নেজামে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার পেয়েছেন ১ হাজার ১৮৪ ভোট। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৮১৩ জন। না ভোট দিয়েছেন ৬৯ হাজার ৬৯৪ জন।
সুনামগঞ্জ—২ আসনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, নাছির উদ্দিন চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মোহাম্মদ শিশির মনির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২২০ ভোট ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নিরঞ্জন দাস পেয়েছেন ১ হাজার ২৩২ ভোট। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৫৪.৭৩ শতাংশ ভোটার। গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়েছে ৬৭ হাজার ৪১০ ও না ভোট ৭০ হাজার ৮২৩টি। পরাজিত জামায়েতের প্রার্থী শিশির মনির বিজয়ী নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে অভিনন্দন জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৫৪.৭৩ শতাংশ ভোটার।
সুনামগঞ্জ—৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ৯৭ হাজার ৩১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীকে ৪২ হাজার ২২৬ ভোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শাহীনূর পাশা চৌধুরী ১৪ হাজার ২০৩ ভোট, স্বতন্ত্র মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ তুষার ২৩৭ ভোট, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ ৮৫৭ ভোট, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম ৪ হাজার ৯৩৭ ভোট ও স্বতন্ত্র হুসাইন আহমেদ ১৭৭ ভোট পেয়েছেন। এই আসনের খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী শেখ মুশতাক আহমদ (দেওয়াল ঘড়ি) গত ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৪৪.০৭ শতাংশ ভোটার। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন ৯৩ হাজার ২৭৪ জন। না ভোট দিয়েছেন ৪৫ হাজার ৪১৯ জন।
১১৬ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫ কেন্দ্রে সুনামগঞ্জ—৪ আসনে বিএনপির নূরুল ইসলাম নূরুল পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৯২ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের মো. সামছ উদ্দিন পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৭৫ ভোট। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন পেয়েছেন ২৬ হাজার ৩০৭ ভোট। জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. নাজমুল হুদা ১ হাজার ৭৮৯ ভোট, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. সামছ উদ্দিন ১ হাজার ৯৩৫ ভোট পেয়েছেন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৫৬.৩০ শতাংশ ভোটার। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৮২৯ জন। না ভোট দিয়েছেন ৫৩ হাজার ৯১৮ জন।
সুনামগঞ্জ—৫ আসনে বি.এন.পি মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিরা হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আবু তাহির মুহাম্মদ আব্দুস সালাম ১ লক্ষ ২ হাজার ১২১ ভোট, খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল কাদির ২ হাজার ২৭৮ ভোট, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ১ হাজার ৫২৪ ভোট এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) প্রার্থী মো. আজিজুল হক ৪৩৩ ভোট পেয়েছেন। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৫০.০১ শতাংশ ভোটার। গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৪ জন। না ভোট দিয়েছেন ৭৬ হাজার ৫৩০ জন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে জেলার ৭২০টি কেন্দ্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে একে একে বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল আসতে শুরু করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির নেতাকমীর্দের উচ্ছ্বাস শুরু হয়। সন্ধ্যা থেকেই সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির পুরাতন বাসস্টেশনের কার্যালয়ে সুনামগঞ্জ—৪ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রের ফলাফল জানানো শুরু হয়। এসময় কার্যালয়ের সামনে থাকা কমীর্ সমর্থক ও সাধারন মানুষ ধানের শীষ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুলের নামে শ্লোগান দেন।
জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে ৮ উপজেলা হাওর বেষ্টিত। ৫টি সংসদীয় আসনে ২০ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৩৫ জন ভোটার এবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ—১ আসনে ৫ লক্ষ ১ হাজার ৫৩০ জন, সুনামগঞ্জ—২ আসনে ৩ লক্ষ ৬ হাজার ৪৮ জন, সুনামগঞ্জ—৩ আসনে ৩ লক্ষ ৭৩ হাজার ১৬ জন, সুনামগঞ্জ—৪ আসনে ৩ লক্ষ ৭২ হাজার ১৮৫ জন, সুনামগঞ্জ—৫ আসনে ৫ লক্ষ ২৭ হাজার ৪৫৬ জন। ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৭২০টি। ভোটকক্ষ ৪ হাজার ২৫০টি। এর মধ্যে ৩২৩টি ভোটকেন্দ্র দুর্গম। ভোটগ্রহণে নিয়োজিত ছিলেন ১৪ হাজার ১৪৬ জন কর্মকর্তা।
নির্বাচনে দেশ এবং দেশের বাইরে ১৮ হাজার ৮৭ জন পোস্টাল ভোটার ছিলেন। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ—১ আসনে ৩,৮০৫ জন, সুনামগঞ্জ—২ আসনে ১,৭১৯ জন, সুনামগঞ্জ—৩ আসনে ৩,২১৮, সুনামগঞ্জ—৪ ৩,৭৮৬ জন সুনামগঞ্জ—৫ আসনে ৫,৫৫৯ জন। নির্বাচনী আচরণ বিধি দেখভাল করার জন্য ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটি, ভিজিলেন্স এবং অবজারভেশন টিম কাজ করছে।
এদিকে নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পাদনের লক্ষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদা থেকে আরও উচ্চপদে কর্মরত ১১ জন সরকারি কর্মকর্তাকে জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জ জেলায় ১২ জন বিচারককে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মনোনয়ন দেয় সরকার।
কামরুজ্জামান কামরুল
সুনামগঞ্জ— ১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা বিএপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য।
নাছির উদ্দিন চৌধুরী
সুনামগঞ্জ—২ আসনে নির্বাচিত জয়ী হয়েছেন ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকা নাছির উদ্দিন চৌধুরী। দুইবার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং একবার এমপি ছিলেন এই দলীয় নেতা। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা বিএনপির আহবায়ক ছিলেন। নাছির উদ্দিন চৌধুরীর পিতার নাম মৃত. মো. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী এবং মাতার নাম মৃত. আফতারুন নেছা খানম। ১৯৬৬ সালে নাছির উদ্দিন চৌধুরী সিলেট এমসি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি, ১৯৬৮ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস এবং ১৯৭০ সালে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন। ১৯৮৫ ও ১৯৮৯ সালে দুইবার দিরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন।
এছাড়াও ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির হয়ে প্রয়াত জাতীয় নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে ৫০৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন তিনি। নাছির উদ্দিন চৌধুরী পেয়েছিলেন ৫৯ হাজার ভোট এবং প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত পান ৫৮ হাজার ৪৯৬ ভোট।
এরপর ২০০১ সালে প্রথম ও ২০০৮ সালে দ্বিতীয় এবং ২০১৮ সালে তৃতীয়বারের মতো বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন নাছির উদ্দিন চৌধুরী। প্রথম দুইবার অর্থাৎ ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের কাছে পরাজিত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।
মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ
দীর্ঘ একযুগ পর ২০২৪ সালে জন্মস্থানে আসেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ। ১৯৯৮ সালে মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ জগন্নাথপুর উপজেলা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহবায়ক নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে ক্ষমতাসীন দলের কর্মীদের হাতে ছাত্রদল নেতা হাফিজ নিহত হন। এরপর রাজনৈতিক হয়রানিতে তিনি দেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্য চলে যান। সেখানে গিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। টানা তিনবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে যুক্তরাজ্য বিএনপির রাজনীতিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেন। ২০১২ সালে তিনি দেশে এসেছিলেন। এরপর হামলা, মামলা ও নিরাপত্তাহীনতায় তিনি আর দেশে আসেন নি। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক মামলা করা হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথেও তিনি বেশ কয়েকটি মামলার এজাহার নামীয় আসামী। শুধু মামলাই নয়, বিএনপির ওই নেতার পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় সিলেটের জিন্দাবাজারস্থ ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্ট। গ্রামের বাড়িতেও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। একারণে পরিবারের সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ২০১৫ সালে কয়ছরের মা এবং ২০১৮ সালে ছোট ভাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান।
নুরুল ইসলাম নুরুল
সুনামগঞ্জ বিএনপির রাজপথের সাহসী তারুণ্য নূরুল ইসলাম নূরুল। বিগত সরকারের শাসনামলে রাজপথে লড়াকু ভূমিকা ছিল তাঁর। সুনামগঞ্জ—৪ আসনে ২০ বছর পর দলের মনোনীত প্রার্থী নূরুল ইসলাম নূরুল বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য। জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক, সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর আসন নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ—৪ আসনে সর্বশেষ ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির এমপি ছিলেন সাবেক হুইপ প্রয়াত ফজলুল হক আছপিয়া। এরপর ২০০৮ ও প্রশ্নবিদ্ধ ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষে অংশ নিলেও পরাজিত হন আছপিয়া।
কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ—সাংগঠনিক সম্পাদক, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। তিনি সুনামগঞ্জ—৫ (ছাতক—দোয়ারাবাজার) আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য।
ছাত্রজীবনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। ১৯৮৮ সালের চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই দলের প্রার্থী হিসেবে সুনামগঞ্জ—৫ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সুনামগঞ্জ—৫ আসন থেকে ২য় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক ও আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে সুনামগঞ্জ—৫ আসন থেকে পরাজিত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়নে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ—৫ আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।