মোঃ মুকিম উদ্দিন জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
তফসিল অনুযায়ী আনুষ্টানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হতেই সারা দেশের ন্যায় সুনামগঞ্জ ৩ আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে এখন সরগরম সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-৩ আসনের ভোটের মাঠ। বড় রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে স্বতন্ত্র প্রার্থী—সবাই এখন মাঠে। জনসভা, গণসংযোগ, প্রচারপত্র বিতরণসহ নানা কর্মসূচিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও সমর্থকেরা।
রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচার-প্রচারণা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচনী হাওয়া বইছে হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ ৩ আসনে। সময় যত ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ ততই বাড়ছে। প্রার্থীরা শুধু ঘরোয়া বৈঠকেই সীমাবদ্ধ নয়, দিন রাত ভোটের মাঠে চষে বেড়াচ্ছেন তারা। হাট-বাজার থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের উঠান বৈঠক সব জায়গায় চলছে বিরামহীন প্রচারনা। জানা যায়, ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে ভোটারদের সঙ্গে কৌশল বিনিময় ও দোয়া প্রার্থনা করছেন। দুই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে প্রার্থীদের ছবি সম্বলিত ব্যানার-পেস্টুনে ছেয়ে গেছে। চায়ের দোকানে এখন প্রধান আলোচনা নির্বাচন নিয়ে। সুনামগঞ্জ ৩ আসনে বড় দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পদচারণাও চোখে পড়ার মতো। প্রার্থীরা মুলত হাওর অঞ্চলের স্থায়ী উন্নয়ন, বেকারত্ব দুরিকরন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চান যার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন হবে, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে হাওরবাসীর দুর্ভোগ লাগবে কার্যকর ভুমিকা রাখবেন। তরুন ভোটারদের মধ্যে কর্মসংস্থান ও আইটি খাতের উন্নয়ন নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখা যাবে। সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ ৩ আসনে এখন উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়ালেও শেষ হাসি কে হাসবেন তা নির্ভর করছে সাধারণ ভোটারদের ভোট প্রয়োগের ওপর।
সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা কোন আবেগের বশবর্তী হয়ে নয় বরং এলাকার উন্নয়ন ও দুঃসময়ে যাকে জনগণের পাশে পাওয়া যায় তাকেই তারা বেছে নিবেন। বিশেষ করে তরুন ভোটারদের বড় একটা অংশ কর্মসংস্থান ও স্বচ্ছ রাজনীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা আরও বলেন, নির্বাচনী মাঠে ময়দানে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারনায় মাঠ গরম করে রাখলেও জয়ের মালা কার গলায় উঠবে তা এখনো বুঝা যাচ্ছে না। ভোটের মাঠে লড়াইয়ে প্রার্থীরা দিনরাত ঘাম ঝড়ালেও চুড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করছে সাধারণ ভোটারদের রায়ের ওপর।