*শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের বিক্ষোভ
*তদন্ত কমিটি গঠন ওশিক্ষক ওএসডি
ওসমানীনগর প্রতিনিধি:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার খাদিমপুর হাজী নছিব উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মোঃ মহরম আলীর বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অপমান এবং ছাত্রীদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকাল রবিবার বিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আন্দোলনে নামেন।
সকালে আন্দোলনকারীরা বিদ্যালয়ের মাঠে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে তারা খাদিমপুর বাজারে গিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। এতে জগন্নাথপুর–গোয়ালাবাজার সড়ক প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, একজন দিনমজুর বাবার অসহায় এক ছাত্রীকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়েছে এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। এতে শিক্ষাঙ্গনের মর্যাদা চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের ভাষ্যমতে, বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক মহরম আলী শিক্ষাঙ্গনের জন্য কলঙ্ক এবং তাকে অবিলম্বে অপসারণ ও পদত্যাগ করতে হবে। আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন সচেতন এলাকাবাসী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও।
এদিকে আরও অভিযোগ উঠেছে, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে বহিরাগত দুই ব্যক্তি এসে প্রধান শিক্ষকের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের সমর্থন জানিয়ে এক শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে যান। এমনকি ওই শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকের মাথার চুল ন্যাড়া করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ওই দুই ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে তদন্তসাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা এবং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদুল আলম ভুঁইয়া। তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন, অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ, শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মোঃ মহরম আলীকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মোঃ মহরম আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন,খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ওসমানীনগরে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষে যুবক নিহত, আটক ৩
ওসমানীনগর প্রতিনিধি ::
সিলেটের ওসমানীনগরে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে শাজাহান মিয়া সৌরভ (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত সৌরভ উপজেলার বুরুঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর তিলাপাড়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় একজন বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে।
আটকৃতরা হলেন- উত্তর তিলাপাড়া গ্রামের সুহেল মিয়ার স্ত্রী সুমনা(৩২),রুহেল মিয়ার স্ত্রী মারিয়া (২৪),শিপন মিয়ার স্ত্রী জেলি বেগম (৩০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার দিনে বুরুঙ্গা ইউনিয়নের উত্তর তিলাপাড়া গ্রামে বারিক মিয়ার গোষ্ঠীর সঙ্গে আব্দুল আজিজের গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হয়। পরে বিকেলে শাজাহান মিয়া সৌরভ সিলেট শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে নিজ বাড়ির সামনে পৌঁছালে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে সৌরভ গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত অন্যরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রবিবার সন্ধ্যায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিহত সৌরভকে দাফন করা হয়।
নিহতের ছোট ভাই রায়হান আহমদ বলেন,পূর্ব বিরোধের জের ধরে আমার ভাই সিলেট থেকে বাড়ি ফেরার পথে আমাদের বাড়ির সামনে বারিকের লোকজন হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুর্শেদুল আলম ভূইয়া বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।