
ঠাকুরগাঁওয়ে বিয়ে পর যৌতুকের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নাসরিনের আত্মহত্যা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
হাসিনুজ্জামান মিন্টু
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় যৌতুকের চাপ ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নাসরিন আক্তার (১৫) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (৫ নভেম্বর) এ ঘটনা ঘটে। চার মাস আগে তার বিয়ে হয়েছিল।
নিহত নাসরিন বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১ নং পাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর পাড়িয়া সালডাঙ্গা পশ্চিম পাড়া গ্রামের আহসান আলীর মেয়ে। তার স্বামী একই গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন। বিয়ের পর জীবিকার প্রয়োজনে তারা ঢাকা নারায়ণগঞ্জের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবার জানায়, বিয়ের পর থেকেই আনোয়ার হোসেন নাসরিনের ওপর যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। যৌতুক আনতে না পারায় তাকে হত্যা করে ফাঁস দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন নিহত নাসরিনের বাবা আহসান আলী ও মা সালমা বেগম।
তারা বলেন, “যৌতুকের টাকার জন্য আমাদের মেয়েকে নিয়মিত নির্যাতন করতো আনোয়ার। টাকা না পেয়ে তাকে হত্যা করে ফাঁস দেয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”
খবর পেয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিবাকর অধিকারী নিহতের বাড়ি সালডাঙ্গা পশ্চিম পাড়ায় গিয়ে তদন্ত করেন। পরে ঢাকা থেকে নাসরিনের লাশ আনার পর ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে ইউডি মামলা (অপমৃত্যু মামলা) দায়ের করে লাশ স্বামী আনোয়ার হোসেনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিবাকর অধিকারী বলেন,
“ঘটনাটি নিয়ে একটি ইউডি মামলা হয়েছে। নিহত নাসরিনের বাবা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”