1. info@www.awazsylhet.com : - :
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
ফেঞ্চুগঞ্জে চার ইটভাটা বন্ধ: থমকে গেছে নির্মাণকাজ, হাজার শ্রমিকের জীবনে সংকট বিশ্বনাথে নিয়ামতিয়া এইড এন্ড ইন্টারন্যাশনাল ইউকে’র উদ্যোগে জগন্নাথপুরে কৃষি জমির উপরভাগ থেকে মাটি কাটায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ২ চালককে জেল জরিমানা পীরগঞ্জে মিনি বাস–মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্কুলছাত্র আহত জন্নাথপুরে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রথম ধাপে বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার দ্বিতীয় ধাপে বহাল ওসমানীনগরে মাওলানা কাজী রফিক আহমদ পীরের দাফন সম্পন্ন,বিভিন্ন মহলের শোক মহান আল্লাহর শানে কটুক্তির প্রতিবাদে বাউল শিল্পী আবুলের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করে, বিজয়ের মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান – হুমায়ুন কবির জগন্নাথপু‌রে কুশিয়ারা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে কারাদন্ড জগন্নাথপুরে বালু খোকেদের বিরুদ্ধে অভিযানে এসিল্যান্ড

এম. নাসের রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলায় একাধিক দোষী সাব্যস্ততা: দুই মামলায় ২২ বছরের সাজা

উৎসবের আলো
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৯১ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টারঃ- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মৌলভীবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান — প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের পুত্র — ২০০৭–২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দায়ের করা দুটি দুর্নীতি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন। আদালতের রায় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁর মোট সাজা দাঁড়ায় প্রায় ২২ বছর, যদিও একাধিক সাজা একত্রে কার্যকর হওয়ায় কার্যকর কারাভোগের মেয়াদ কিছুটা কম।

অবৈধ সম্পদ অর্জন ও গোপনের মামলা দুদকের উপ-পরিচালক মনিরুজ্জামান খান ২০০৭ সালের ২৭ মে এই মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ ছিল, নাসের রহমান তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন এবং আরও ১ কোটি ৮০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনকরেন।

বিশেষ জজ আদালত-৯, ঢাকা ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল তাঁকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড৫ লাখ টাকা জরিমানা দেন। রায়ে বলা হয়, সম্পদ গোপনের অপরাধে তিন বছর এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অপরাধে দশ বছরের সাজা কার্যকর হবে।

স্ত্রী রেজিনা নাসের রহমানকেও সহ-অভিযুক্ত করা হয়েছিল, তবে পরে হাইকোর্ট তাঁর সাজা স্থগিত করে জামিন মঞ্জুর করেন।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অজানা উৎসের ৬ কোটি টাকার জমা শনাক্ত হয়েছিল। আদালতে একাধিক সাক্ষী সাক্ষ্য দেন যে, এসব সম্পদ রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে সংগৃহীত কমিশন থেকে এসেছে।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের ঘুষ মামলায় সাজার রায়, দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের হয় ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। অভিযোগে বলা হয়, ২০০৩ সালে কনট্রাক্টর নুরুজ্জামানের কাছ থেকে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের একটি চুক্তি বাস্তবায়নের সুবিধা দিতে গিয়ে নাসের রহমান ২ কোটি টাকা ঘুষ দাবি ও গ্রহণ করেন।

সিলেটের তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২০০৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর এ মামলায় তাঁকে ৯ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। সহ-অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও প্রকৌশলীসহ তিনজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়; দুইজন খালাস পান এবং একজনের মামলা স্থগিত থাকে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা বিএনপি এই রায়গুলোকে “রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল” বলে উল্লেখ করে, আর সমালোচকরা অভিযোগ করেন যে নাসের রহমান দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে সরকারি প্রকল্প থেকে কমিশন নিতেন — যার ফলে তাঁর নাম একসময় “Mr. 25%” উপাধিতেও পরিচিতি পায়।

২০০৯ সালে হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। দুদকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন (২০২৫ পর্যন্ত) অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নতুন মামলা বা তদন্ত নেই, তবে পুরোনো মামলাগুলোর আপিল প্রক্রিয়া এখনও আদালতে চলমান।

এম. নাসের রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা এসব মামলা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৭–২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্নীতি দমন অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। যদিও তিনি ও তাঁর দল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই অভিযোগ করেন, আদালতের রায় ও দুদকের প্রমাণ উপস্থাপনা তাঁকে দেশের অন্যতম দোষী সাব্যস্ত রাজনীতিক হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইন্টেল ওয়েব