ডেস্কে রিপোর্ট : নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের সাংবাদিক ও বিএনপি কর্মী মো. মোস্তফা আনোয়ার। সাংবাদিকতার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও সাংবাদিকতার কারণে বিভিন্ন সময়ে তিনি হামলা, আটক, নির্যাতন এবং মামলার শিকার হয়েছেন। কয়েকটি ঘটনায় প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছেন বলে আমাদের কে জানান।
মো:মোস্তফা আনোয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর পিতার নাম :মো:আব্দুল মিতালি এবং মায়ের নাম :রেহানা জালাল চৌধুরী। তাঁর গ্রামের বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার রাজনপুরে।
তিনি পেশাগত কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সময়ের অভিযোগ পর্যালোচনা করলে ২০১৭ সাল থেকে তাঁর রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতা জীবনের সঙ্গে হামলা, আটক এবং মামলার অভিযোগের একটি ধারাবাহিকতার কথা আমাদের জানান।
২০১৭ সালে বিএনপিতে যোগদান করেন:
মো:মোস্তফা আনোয়ার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর থেকে দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ ও সিলেট বিভাগের বিএনপির সভা, সমাবেশ ও মিছিলের ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং রাজনৈতিক সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের কাজ করতেন। যদিও তিনি দলের বড় কোনো পদে ছিলেন না, স্থানীয় ও বিভাগয় পর্যায়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
সাংবাদিকতায় যাত্রা:
রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতাকেও পেশা হিসেবে বেছে নেন মো:মোস্তফা আনোয়ার।
১ জুলাই ২০১৯ সালে তিনি ‘আওয়াজ সিলেট’-এ বার্তা সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। একই বছরের ১০ ডিসেম্বর ‘বাংলার ভিউ সংবাদ’-এর প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি ‘স্কাই মিডিয়া বিডি’ অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানান।
পেশাগত কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ১ জানুয়ারি ২০২০ সালে তিনি সিলেট প্রেসের সদস্য এবং ১৩ জুন ২০২৪ সালে লন্ডন প্রেস ক্লাবের সদস্য হন বলেও জানিয়েছেন।
২০২০ সালে অফিসে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ:
মো: মোস্তফা আনোয়ারকে , ২৬ আগস্ট ২০২০ সন্ধ্যায় তিনি নিজ কার্যালয়ে কাজ করার সময় তিন থেকে চারজন ব্যক্তি সেখানে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন।
ওই ব্যক্তিরা তাঁর হাত-পা ও মুখ বেঁধে মারধর ও নির্যাতন করেন। পরে অফিসের বাইরে তালা লাগিয়ে তারা চলে যান। রাত ১টার পর তাঁর বড় ভাই অফিসের তালা ভেঙে তাঁকে উদ্ধার করেন বলে জানান তিনি। মো:মোস্তফা আনোয়ার বলেন, হামলাকারীদের মুখে মাস্ক থাকায় তিনি তাদের কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। কে বা কারা অটক করেছে তদের নাম পরিচয় ছাড়া মামলা করা সম্ভব নয় বলে পুলিশ তাঁকে জানায়।
২০২৩ সালের ১৮ মে আরেকটি হামলার শিকার হন মো:মোস্তফা আনোয়ার।
সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ ফেরার পথে হেলমেট পরা দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা করেন। হামলাকারীরা লাঠি ও অন্যান্য বস্তু দিয়ে তাঁকে মারধর করে।
তিনি জানান, হামলার পর রাস্তায় পড়ে গেলে কয়েকজন পথচারী তাঁকে উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। ১৮ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা রত ছিলেন। পরে থানায় বিষয়টি জানানো হলেও পুলিশ ঘটনাটিকে ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সংঘটিত সাধারণ হামলা হিসেবে দেখার কথা জানায়। হামলাকারীদের পরিচয় না থাকায় মামলা করার সুযোগ নেই বলেও পুলিশ জানিয়েছিল। এ ঘটনায় কোনো সাধারণ ডায়েরিও করা হয়নি বলে জানান তিনি।
২০২৩ সালে রাজনৈতিক মামলার অভিযোগ:
মো: মোস্তফা আনোয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ জুন ২০২৩ সালে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ২০(০৬)২০২৩ জি.আর. মামলা নং ৮১/২০২৩ এবং এতে দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯ ও ৪৩৫ ধারার উল্লেখ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০ মে ২০২৪ সালে ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আটকের আদেশ জারি হয়।
সংবাদ প্রকাশের জেরে সাইবার মামলার অভিযোগ:
২০২৪ সালে একটি সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও আমদেরকে জানান মো:মোস্তফা আনোয়ার।
৮ মে ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি সংবাদের জেরে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের সময় তাঁর বিরুদ্ধে সাইবার পিটিশন মামলা করা হয়।
তিনি জানান, সাইবার পিটিশন মামলা নং ৫৭/২০২৪-এ ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫ ও ২৯ ধারার উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে ২৭ জুন ২০২৪ সালে এ মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আটকের আদেশ জারি হয়।
বিভিন্ন সময় হামলা, মামলা ও আটকের অভিযোগ থাকলেও মো:মোস্তফা আনোয়ার সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান।
নিজেকে সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মী, সাংস্কৃতিক ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত তিনি । ফেঞ্চুগঞ্জ ও সিলেটের বিভাগীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।
মো: মোস্তফা আনোয়ার বলেন, বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি তাঁর পেশাগত দায়িত্ব ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চান।